পাথুরে পাহাড়ের মতো কিছুটা শক্ত ও পৃথিবীর মতো আকৃতির আরো ১০টি গ্রহ আবিষ্কারের দাবি করেছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। সৌরজগতকে ধারণকারী ছায়াপথে (Milky Way Galaxy) এই ১০ গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এতে জীবনের অস্তিত্বের জন্য অতীব জরুরী তরল পানি রয়েছে বলেও জানায় নাসা।

নাসার টেলিস্কোপ কেপলারে (Kepler) ধরা পড়ে এই ১০ নতুন গ্রহ। এই নিয়ে ২০০৯ সালে নাসার মহাকাশ টেলিস্কোপ কেপলারের যাত্রা শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত সৌরজগতের বাইরে কাছাকাছি দূরত্বে ২২৯টি গ্রহের সন্ধান পেল সংস্থাটি যার মধ্যে ২১৯টির সন্ধান মেলে প্রথম চার বছরে। মহাকাশ গবেষকরা এসব গ্রহের নাম দিয়েছেন এক্সো-প্ল্যানেট (exoplanet)।

নতুন আবিস্কৃত ১০ গ্রহ সম্পর্কে নাসার বিজ্ঞানীরা আরো দাবি করেছেন, এই গ্রহগুলো তাদের নিজ নিজ নক্ষত্র বা সূর্যের চারপাশে ঠিক সেইরুপ দূরত্বে প্রদক্ষিণ করছে যেরুপ সূর্যের চারপাশে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন এর ফলে ওই গ্রহগুলোর যে তাপমাত্রা রয়েছে এবং তাতে তরুল পানির যে অস্তিত্ব দেখা গেছে তা জীবন ধারনের জন্য সহায়ক।

তবে, ওই গ্রহগুলোতে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে মর্মে এখনই জোর দিয়ে কিছু বলতে নারাজ নাসা। আপাতত তারা এইটুকুই বলতে চায় যে, প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অতীব জরুরী কিছু উপাদান রয়েছে ওই গ্রহগুলোতে।

কেপলার বিজ্ঞানী মারিয়ো পেরেজ (Mario Perez) বলেন, আজকের কেপলার আমাদের এমনই তথ্য দিচ্ছে যে আমরা সম্ভবত আর একা নই। তবে, এ ব্যাপারে আমাদেরকে আরো নিশ্চিত হতে হবে। মারিয়া এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই মন্তব্য করেন।

এদিকে, নাসার বাইরের বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পৃথিবীর বাইরেও জীবের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা নিয়ে যে দীর্ঘ গবেষণা চলছে সেক্ষেত্রে এই নতুন আবিস্কার এক বিরাট অগ্রগতি বয়ে আনবে।

হার্ভার্ডের জোতির্বিজ্ঞানী আভি লোয়েব (Avi Loeb) আমেরিকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপিকে (Associated Press) দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, সূর্যের মতো যেসব নক্ষত্র বা তারা রয়েছে তার চারদিকে পৃথিবীর মতো গ্রহ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে, এই নতুন আবিস্কার এক্ষেত্রে সম্ভাবনাকে আরো বাড়িয়ে দিলো।

নাসার পক্ষ থেকে আরো বলা হচ্ছে, এটা হচ্ছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ৮ম জরিপ। আর এবারের জরিপটি খুবই সুসংহত এবং প্রতিবেদনটিও বেশ বিস্তারিত। এই প্রতিবেদনে কেপলারের মাধ্যমে সনাক্ত হওয়া ৪০৩৪টি গ্রহের ধারণা দেয়া হয়েছে যার মধ্যে ২৩৩৫টিকে এক্সো-প্ল্যানেট হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, কেপলারই হচ্ছে একমাত্র মহাকাশ টেলিস্কোপ যা মহাকাশের নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হেবিটেবল জোনে (habitable zone) পৃথিবী-সদৃশ গ্রহ দেখতে সক্ষম।

কেপলারের যাত্রা শুরু হওয়ার আগে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করতেন মহাকাশে যেসব নক্ষত্র বা তারকারাজি রয়েছে তার শতকরা একভাগের পৃথিবী-সদৃশ গ্রহ থাকতে পারে।

তবে, চলতি সপ্তাহের শেষান্তে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় কেপলার বিজ্ঞানীদের এক সম্মেলনে কারনেগ ইনস্টিটিউটের (Carnegie Institution) জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যালান বস (Alan Boss) দাবি করেছেন যে প্রায় ৬০ শতাংশ নক্ষত্রেরই পৃথিবী-সদৃশ অর্থাৎ পৃথিবীর মতো গ্রহ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অবশ্য সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর মতো গ্রহ আবিস্কারের ক্ষেত্রে কেপলারই একমাত্র মাধ্যম নয় বলে দাবি জ্যোর্তিবিজ্ঞানীদের। কেপলার ও অন্যান্য মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬শর বেশি এক্সো-প্ল্যানেটের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন যার মধ্যে প্রায় ৬২টিতে জীবনের অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী কোর্টনি ড্রেসিং (Courtney Dressing) অবশ্য এই সংখ্যাকে খুবই নগন্য বলে মনে করেন। তবে, নতুন নতুন আবিস্কারের কারণে তিনি খুবই উৎফুল্ল ও বড় কিছুর ব্যাপারে আশাবাদী বলেও জানান এই ক্যালটেক জোতির্বিজ্ঞানী (Caltech astronomer)।

বিজ্ঞানের এই নতুন নতুন আবিস্কারের মধ্য দিয়ে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত অপরাপর প্রাণীর অস্তিত্ব ক্রমশই মানুষের নিকট আরো বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে প্রতিভাত হচ্ছে বলেই মনে করেন ধর্ম বিশেষজ্ঞরা। পবিত্র কুরআনে জিন জাতি ও ফেরেশতাদের সম্পর্কে অনেক তথ্য দেয়া হয়েছে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এখনো এই দুই প্রাণীর অস্তিত্ব আবিস্কার করতে সক্ষম হয়নি। উর্ধ্বাকাশে ফেরেশতাদের বিচরণ সম্পর্কেও পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা বিজ্ঞান যতই উৎকর্ষ সাধন করবে ইসলাম ধর্ম ততই বিস্তার লাভ করবে এবং উচ্চ শিক্ষিত মহল ততই এই ধর্মের দিকে ধাবিত হবে। আর এভাবেই অবিশ্বাসী নাস্তিকসহ সবার কাছে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ক্রমশই প্রকট হবে বলেই আশাবাদী ধর্মবিশ্বাসীরা। (সূত্র: আলজাজিরা ও অন্যান্য সংস্থা)

কেবি