ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে ১৭০ কোটি রুবল চুরির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করেছে রাশিয়া। দেশটির বেশকিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে 'লার্ক' নামক একটি ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হানা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় আটককৃতদের বিরুদ্ধে।
দেশটির আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি জানায়, রাশিয়ান সরকার দেশটির ১৫টি অঞ্চল জুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে এ দলটিকে আটক করে। এ আটকের ঘটনায় আরও ২৩০ কোটি রুবল চুরি ভেস্তে গেছে বলেও জানায় সংস্থাটি।
এফএসবি-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, "চিরুনী অভিযানে তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার ইকুইপমেন্ট, কমিউনিকেশন গিয়ার, ভুয়া নামে ব্যাংক কার্ড, ফিনান্সিয়াল ডকুমেন্ট এবং অর্থ জব্দ করা হয়।"
বিবিসি জানায়, লার্ক ম্যালওয়্যারটি আক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে প্রবেশ করে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও কিছু সফটওয়্যার মডিউল ডাউনলোড করার মাধ্যমে এ ম্যালওয়্যার ব্যবহারকারীর কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয় হ্যাকারদের হাতে। ফলে কম্পিউটারে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্য চলে যায় হ্যাকারদের হাতের নাগালে। এটিপি-নির্ভর হওয়ায় প্রতিটি আক্রমণে ভিন্নতা থাকে, যার ফলে এসব আক্রমণ চিহ্নিত করা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে।
এ ম্যালওয়্যারের সাহায্যে ব্যবহারকারীদের লগইন নেইম ও পাসওয়ার্ড চুরির মাধ্যমে অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে, বিশেষভাবে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংক স্বারব্যাংক-এ সাইবার আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
লার্ক তদন্ত ও অভিযুক্তদের আটকে সহায়তা করেছে অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট তদন্ত বিভাগের প্রধান রুসলান স্টোয়ানভ বলেন, "দেড় বছর আগে থেকে লার্ক ব্যাংকে হামলা চালানো শুরু করে। এর আগে এটি বিভিন্ন এন্টারপ্রাইজ ও কনজিউমার সিস্টেমে আক্রমণ চালিয়ে আসছিল।"
রাশিয়ান নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গ্রুপ আইবি-এর মুখপাত্র ভিক্টর ইভানোভস্কি জানান, ২০১১ থেকেই এ দলটি এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, "সাম্প্রতিককালে রাশিয়ান ব্যাংকগুলোতে আমরা লার্ক গ্রুপের অ্যাডভান্সড পার্সিস্টেন্ট থ্রেট (এটিপি)-নির্ভর আক্রমণের সংখ্যা লক্ষণীয় হারে বৃদ্ধি পেতে দেখেছি।"
এফএফ





