আজ রাতে বিশ্ব এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখবে। দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। একই সাথে পূর্ণগ্রাস ও চন্দ্রগ্রহণ একটি বিরল ঘটনা। শেষবার এমনটা ঘটেছিল ১৫২ বছর আগে।
নতুন বছরের শুরুতেই এরকম ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ববাসী। তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক এই ঘটনাটি বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাবে। এই রাতে কক্ষপথে একইসঙ্গে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য নৃত্য করবে! এর ফলে ওই রাতে সুপারমুন বা চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে।
এমনটা ঘটছে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে চাঁদের অসম প্রদক্ষিণের কারণে। চাঁদ পৃথিবী থেকে গড়ে দুই লাখ ৩৯ হাজার মাইল দূর থেকে প্রদিক্ষণ করে। কিন্তু কক্ষপথে এর বৃত্ত পূর্ণ না। কখনও এটি পৃথিবীর অনেক কাছে চলে আসে (অনুভূ) আবার কখনও এটি দূরে সরে যায় (অপভূ)।
চাঁদের অনুভূর সময় সূর্য-চাঁদ-পৃথিবী কক্ষপথে সমান্তরালে থাকাবস্থায় সুপারমুন হয়। কেননা এটি পৃথিবীর দুই লাখ ২৩ হাজার ৬৯ মাইল কাছে চলে আসবে। এ কারণে ১৫ জানুয়ারির তুলনায় চাঁদ ১৩ শতাংশ চওড়া ও ২৮ শতাংশ বড় দেখা যাবে। সেদিন চাঁদ পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরবর্তী অবস্থানে ছিল।
তবে সুপারমুনের ক্ষেত্রে চাঁদ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশকিছুটা বড় দেখা যায়। কিন্তু ৩১ জানুয়ারি এটিকে ব্লু সুপারমুন বলার কারণ হচ্ছে এটি চলতি মাসের দ্বিতীয় সুপারমুন। এ মাসের প্রথম দিন পূর্ণ চাঁদ দেখা যায়, যেটি ছিল বড় ও উজ্জ্বল সুপারমুন।
কিন্তু ব্লু মুন প্রতি ২ দশমিক ৭ বছর পর দেখা যায়। চাঁদের সঙ্গে দিনপঞ্জিকার অসামঞ্জস্যতার কারণে এটি দেখা যায়। পূর্ণিমা থেকে ক্ষয়িঞ্চু এই চক্র পূরণ করতে চাঁদের ২৯ দিন সময় লাগে। যা ক্যালেন্ডারের মাসের চেয়ে কিছুটা কম। ওইদিন রাতের শেষ আকর্ষণ হচ্ছে চন্দ্রগ্রহণ।
নাসা জানাচ্ছে, উত্তর আমেরিকা জুড়ে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বাসিন্দারা দিনের প্রথম প্রহরে চাঁদ রক্তাভ আকার ধারণ করছে এমনটা দেখতে পাবেন। তবে পশ্চিম উপকূলের বাসিন্দারা এরচেয়েও বেশি কিছু দেখতে পাবেন।
তবে হাওয়াই, আলাস্কা, অস্ট্রেলিয়া ও পূর্ব এশিয়ার মানুষরা পুরো চন্দ্রগ্রহণটা দেখতে পাবেন। যদি আপনি বাইরে যেতে না পারেন কিংবা মেঘের কারণে দেখতে না পারেন তাহলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই, কেননা নাসা টিভি পুরো ঘটনাটাই সম্প্রচারের পরিকল্পনা করেছে।
জেড





