অর্থনৈতিক বাস্তবতা আর কৃত্রিম বুদ্ধমত্তখাতে বড় বিনিয়োগের চাপ সমালাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। শুক্রবার ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষাণা দিয়েছে প্রযুক্তিখাতের জায়ান্ট গুগলের মাদার প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট।

প্রযুক্তি জগতের আর এক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান মাইক্রসফটের ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণার দুই দিন পর গুগলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণাকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার লক্ষণ হিসেবে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞর।

২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপি করোনা মহামারি শুরু হলে বিশ্বের অন্যসব খাতে এর ব্যপক প্রভাব পড়লেও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তেমন প্রভাব পড়েনি। এমনকি এ সময় কম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি অন্য বছরগুলোর তুলুনায় বেশি হয়েছিল। এসময় নিজেদের কর্মী সংখ্যাও বাড়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো।

২০২০ সালের জুনে মাইক্রোসফটের কর্মী সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৬৩ হাজার, সেখানে কর্মী সংখ্যা ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালের জুনে এ সংখ্যা দাঁড়ায় দুই লাখ ২১ হাজারে। বিশ্বব্যাপি লকডাউনের সময়ও কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল প্রতিষ্টনটি। তবে গেলে বছরের শুরুতে ইউক্রেন রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ফলে ব্যয় সংকোচেনের পথে হাটতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানগুলো।

এর বাইরে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অংকের বিনিয়োগ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাখাতে (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স)। প্রযুক্তিখাতে ভবিষ্যতে টিকে থাকতে হলে রোবটিক্স বা কৃত্রিম বুদ্ধমত্তার কোনো বিকল্প দেখছে না কম্পানিগুলো। ফলে বড় আকারের বিনিয়োগ করছে সেখানে। কিন্তু এত বড় বিনিয়োগের তাৎক্ষণিক কোনো লাভ পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে বিনিয়োগের এ চাপ সামলাতে প্রথম হাত পড়ে কর্মীদের উপর।

এ মাসের শুরতেই প্রায় ১৮ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা জানায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন রিটেইল কম্পানি অ্যামাজন। করোনার সময় বিশ্বব্যাপি অনলাইনে কেনাবেচার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। বৈশ্বিক মন্দার কারণে এ খাতেও বড় প্রভাব পড়ে। ফলে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে পা বাড়ায় এ প্রতিষ্ঠানও।

এমন হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, বিশ্বব্যপি পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

এইচএম