পাইরেট সাইটগুলোর বিজ্ঞাপন খাতে আয়ের পরিমাণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৩ সালে বিজ্ঞাপন খাতে এ সাইটগুলোর আয় দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ডিজিটাল সিটিজেনস অ্যালায়েন্স (ডিসিএ) তাদের ‘গুড মানি গন ব্যাড: ডিজিটাল থিভস অ্যান্ড দ্য হাইজ্যাকিং অব দ্য অনলাইন অ্যাড বিজনেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। খবর টেক স্পটের।
অনলাইনে বিজ্ঞাপন খাতের বাজার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন অনলাইন প্রতিষ্ঠান এ খাত থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। পাইরেট আইটেম সরবরাহকারী সাইটগুলোও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। এ সাইটগুলোয়ও সাম্প্রতিক সময়ে বহু প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করছে।
বিভিন্ন চলচ্চিত্র, টিভি শো, গান থেকে শুরু করে আরও অনেক আইটেমের নকল কপি সাইটগুলো গ্রাহকদের সরবরাহ করছে। এতে বাজার আয় কমছে মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর। কিন্তু সাইটগুলো যে এখন শুধু এ ধরনের আইটেমের বাজারেই প্রভাব বিস্তার করছে, তা নয়। এ সাইটগুলো এখন বৈধ সাইটগুলোর বিজ্ঞাপন বাজারেও ভাগ বসাচ্ছে।
প্রতিবেদনে ডিসিএ জানায়, ২০১৩ সালে সাইটগুলোর বিজ্ঞাপন খাত থেকে আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। চলতি বছরও তাদের আয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও প্রতিবেদনে জানায় ডিসিএ। তারা পাইরেট সাইটগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে বিন্যাস করেছেন। এ বিন্যাস মূলত সাইটগুলোর মাসিক গ্রাহক সংখ্যার ওপর ভিত্তিতে করা হয়েছে।
যেসব পাইরেট সাইটের মাসিক গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি, তাদের বড় শ্রেণীতে ফেলা হয়েছে। যাদের মাসিক গ্রাহক সংখ্যা ১০-৫০ লাখের মধ্যে, তাদের ফেলা হয়েছে মাঝারি সাইটের শ্রেণীতে। আর যেসব সাইটের মাসিক গ্রাহক সংখ্যা ১০ লাখের নিচে, তাদের ফেলা হয়েছে নিম্ন শ্রেণীতে। এ সাইটগুলো বিজ্ঞাপন খাতের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছে।
টরেন্ট পোর্টাল, লিংকিং সাইটস, স্ট্রিমিং সাইট ও ডাউনলোড সাইটগুলোকেও ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীতে ফেলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাইরেট সাইটগুলো বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের অনলাইন আইটেমই গ্রাহকদের সরবরাহ করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মূল প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা তাদের আইটেমগুলো বাজারে ছাড়লে গ্রাহক আর আগের মতো তা কিনছেন না। অনেক গ্রাহকই এখন পাইরেট সাইটগুলোর ওপর নির্ভর করছেন। ফলে এ সাইটগুলোয় বিজ্ঞাপন প্রচারে আগ্রহী হচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
প্রতিবেদনে এ সাইটগুলোর বিজ্ঞাপনের আকার, সাইটটির অবস্থা ও বিজ্ঞাপন প্রচারের খরচের হারও বিবেচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সাইটগুলো কিছুটা উচ্চমূল্যেই বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এতে আয়ের পরিমাণও ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের প্রায় ৫৯৬টি সাইটের ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডিসিএ।
শীর্ষ সার্চ ইঞ্জিন গুগলের কাছে গত বছর এ ধরনের সাইটের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ আসে। এর মধ্যে গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেই (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গুগলের কাছে এ ধরনের অভিযোগ আসে প্রায় ২৫টিরও বেশি। গ্রাহক সংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষ ৩০টি সাইট ও টরেন্ট সাইটগুলোর আয় সবচেয়ে বেশি। এ সাইটগুলো গত বছর মোট ৬০ লাখ ডলার আয় করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ছোট শ্রেণীর সাইটগুলোও প্রতি বছর মোট ১ লাখ ডলার আয় করছে।
এ সাইটগুলোর মধ্যে টরেন্ট সাইটগুলোই বিজ্ঞাপন খাত থেকে বেশি আয় করছে। যে সাইটগুলোকে এ জরিপের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের মোট লাভের ৯২ দশমিক ১ শতাংশই করছে টরেন্ট সাইটগুলো। এদিকে তাদের আয়ের পরিমাণ জরিপে অন্তর্ভুক্ত সাইটগুলোর প্রায় অর্ধেক। এর মাধ্যমে খুব সহজেই এ বাজারে টরেন্ট সাইটগুলোর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এদিকে পাইরেট সাইটগুলোয় অনেকে বিজ্ঞাপন বিক্রি করছে। ধরা যাক, কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য কোনো মাধ্যমের শরণাপন্ন হলো। তারা প্রতিষ্ঠানটির এ বিজ্ঞাপন অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছে। পাইরেট সাইটগুলোয় ম্যাক ডোনাল্ডস, ফোর্ড, ডেল, অ্যামাজনসহ আরও অনেক শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যাপারে কিছুই জানছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ডিসিএ তাদের প্রতিবেদনে আরো জানায়, এ ধরনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপন পাইরেট সাইটগুলোয় প্রচার হওয়ায় তাদের সম্মানহানি হচ্ছে। এতে এ প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকাংশে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীনও হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন বাজারে এ সাইটগুলো ক্রমেই আধিপত্য বিস্তার করছে। শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে অনেক ছোট প্রতিষ্ঠানও এ সাইটগুলোয় বিজ্ঞাপন প্রচারে আগ্রহী হচ্ছে। ডিসিএ জানায়, এ ধরনের প্রবণতা অনলাইন আইটেমের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন খাতের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
[b]ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ[/b]