প্রযুক্তিবিশ্বের শীর্ষপর্যায়ের কয়েকজন উদ্যোক্তা নানা উদ্ভাবনী পণ্য ও আইডিয়া দিয়ে বিশ্বকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। এর পাশাপাশি তাঁরা অর্জন করেছেন বিপুল ধন-সম্পদ। কিন্তু তারা কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত এ ধন-সম্পদের বেশির ভাগই তাঁদের সন্তানদের জন্য রাখছেন না। তার বদলে এর বেশিরভাগই তাঁরা ব্যয় করবেন বিশ্ববাসীর কল্যাণে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
১. বিল গেটস
মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তার উদ্ভাবন, মেধা, সৃজনশীলতা আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করেছেন ৭৮ বিলিয়ন ডলার (ছয় লাখ কোটি টাকারও বেশি) মূল্যমানের সম্পদ। বিল গেটসের তিনজন সন্তান রয়েছে। তবে তিনি তার এ বিপুল সম্পদের প্রায় কিছুই সন্তানদের জন্য রেখে যাবেন না। বিল গেটস তার সন্তানদের জন্য মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলার করে রেখে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে রেডিট এএমএতে গেটস বলেন, ‘আমার মনে হয় সন্তানদের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ রেখে গেলে তাদের কোনো সুবিধা হবে না।’
তিনি বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন করেছেন ১৯৯৪ সালে। আর এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া গেটস আরেক বিলিয়নেয়ার ওয়ারেন বাফেটকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রচারণা শুরু করেছেন ‘দ্য গিভিং প্লেজ’ নামে। এতে অন্য বিলিয়নেয়ারদের তাদের সম্পদের কমপক্ষে অর্ধেক মানব কল্যাণে দান করার প্রচারণা চালাচ্ছেন তাঁরা।
২. স্টিভ কেস
আমেরিকা অনলাইনের মাধ্যমে লাখ লাখ আমেরিকানকে অনলাইনের আওতায় আনতে ভূমিকা রেখেছিলেন স্টিভ কেস। আর এর মাধ্যমে বিপুল অর্থবিত্তেরও মালিক হয়েছেন তিনি।
১৯৯৭ সালে তিনি কেস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল উদ্দেশ্য মানব কল্যাণ।
স্টিভ কেস ও তাঁর স্ত্রী লিখেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি না যে আমাদের সম্পদ শুধুই আমাদের। তার বদলে আমরা এসব সম্পদের দায়িত্বশীল পরিবেশনকারী হওয়ার চেষ্টা করছি।’
৩. মার্ক বেনিওফ
সেলসফোর্স-এর সিইও ও ব্যাপক অর্থবিত্ত অর্জনকারি টেক উদ্যোক্তা মার্ক বেনিওফ। তিনি তার ১/১/১ মডেল অনুসরণ করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে উদ্বুদ্ধ করছেন। যার অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানকে তার ইকুইটির শতকরা এক ভাগ দান করা উচিত। এ ছাড়া এক ভাগ কর্মীদের এবং এক ভাগ মানবকল্যাণে ব্যয় করা উচিত। তিনি ও তাঁর স্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ২০০ মিলিয়ন ডলার দান করেছেন একটি শিশুদের হাসপাতালের তহবিলে।
৪. ইরউইন জ্যাকবস
কোয়ালকমের প্রতিষ্ঠাতা ইরউইন জ্যাকবস তার উপার্জিত ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন স্থানে দান করে দিয়েছেন।
এ ছাড়া ইলেক্ট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর উপার্জিত অর্থের অর্ধেক তিনি দান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
৫. পিয়েরে ওমিডিয়ার
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন বিক্রেতা প্ল্যাটফর্ম ‘ইবে’র প্রতিষ্ঠাতা পিয়েরে ওমিডিয়ার ও তাঁর স্ত্রী বিশ্বের দানশীল ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। ইবে ১৯৯৮ সালে পাবলিক লিমিটেড প্রতিষ্ঠান হওয়ার পর সেখান থেকে অর্জিত এক বিলিয়ন ডলার দান করেছেন তিনি। ২০১০ সালে তিনি ‘দ্য গিভিং প্লেজ’-এ স্বাক্ষর করেছেন। অবশ্য ২০০১ সালেই তিনি তার অর্জিত সম্পদের বেশির ভাগই বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন।
৬. গর্ডন মুর
ইন্টেলের সহপ্রতিষ্ঠাতা গর্ডন মুর তাঁর এক বিলিয়নেরও বেশি অর্থ দান করে দিয়েছেন মানবকল্যাণে। এ ছাড়া তিনি মুর ফাউন্ডেশনে তাঁর সম্পদের অর্ধেক দান করে দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও মার্কিন সান ফ্র্যান্সিসকো কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করে। ২০১২ সালে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ‘দ্য গিভিং প্লেজ’-এ স্বাক্ষর করেছেন।
৭. ইলন মাস্ক
টেসলার সিইও এলন মাস্ক সফল প্রযুক্তিউদ্যোক্তা হিসেবে যথেষ্ট অর্থকড়ি কামিয়েছেন। তার পাঁচ সন্তান রয়েছে। তবে তার পরও তিনি তাঁর সম্পদের শির ভাগই দান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি নবায়নযোগ্য এনার্জি, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিমধ্যেই বিপুল অর্থ দান করেছেন। ২০১২ সালে তিনি ‘দ্য গিভিং প্লেজ’-এ স্বাক্ষর করেছেন।
৮. ল্যারি পেইজ
গুগলের সিইও ল্যারি পেইজ তার উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগিয়ে ব্যাপক অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। তাঁর দুই সন্তান রয়েছে।
কিন্তু গত মার্চ মাসে তিনি বলেন, ইলন মাস্কের মতোই তিনি তাঁর সম্পদ বিশ্ব পরিবর্তনকারী প্রযুক্তির পেছনে দান করতে চান।
ঢাকা, ১৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





