অবশেষে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের জন্য কক্ষপথ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ জন্য অরবিটাল স্লট ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ লিজ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস।
এর আগে সকালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন অব স্পেস কমিউনিকেশনের সঙ্গে চুক্তি সই করে বিটিআরসি। বিটিআরসির কমিশনার এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক এ টি এম মনিরুল আলম এবং ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনালের বাণিজ্যিক পরিচালক টিমোফি অ্যাব্রামুভ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুনীল কান্তে বোস বলেন, ‘চুক্তির মাধ্যমে কক্ষপথের মালিকানা পেয়ে গেল বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের জন্য কক্ষপথটি ১৫ বছরের জন্য লিজ নেওয়া হয়েছে। তবে তা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়ন (আইটিইউ) নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে দুই ধাপে ১৫ বছর করে আরো ৩০ বছর অর্থাৎ মোট ৪৫ বছরের জন্য নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে আরো অন্তত তিনটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে।
তিনি জানান, অরবিটাল স্লট সংগ্রহের জন্য ইন্টারস্পুটনিককে দুই কোটি ৮০ লাখ ডলার দিতে হবে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর তা একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
সুনীল কান্তি বোস আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করবে বাংলাদেশ, বাকি ২০টি বিক্রি করা হবে।
মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ লাভজনক হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এতে যেমন সম্ভাবনা আছে, তেমনি ঝুঁকিও আছে। আমরা এসব ঝুঁকির নানান দিক বিবেচনা করেই এগুচ্ছি।’
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৩১৫ কোটি টাকা দিবে সরকার, বাকি এক হাজার ৬৫২ কোটি টাকা সরবরাহ করবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণে ২০১২ সালের ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ
ইন্টারন্যাশনালের (এসপিআই) সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি। চুক্তি অনুযায়ী স্যাটেলাইটের নকশা প্রণয়ন, গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ, বাজার মূল্যায়ন, ম্যানুফ্যাকচারিং, স্যাটেলাইটের মার্কেটিং, ব্যবসায়ীক পরিকল্পনা, অরবিটাল স্লট নির্ধারণ ও তরঙ্গ সম্বনয়, দেশের প্রযুক্তিবিদদের প্রশিক্ষণসহ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে যুক্তরাষ্ট্রের এই কোম্পানিটি। আর এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসপিআইকে দিতে হবে ৮২ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরামর্শ প্রতিষ্ঠানটি গাজীপুরের জয়দেবপুর এবং রাঙ্গামাটির বেতনুবিয়ায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য দুইটি গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের জায়গা নির্ধারাণ করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিজস্ব স্যাটেলাইট না থাকায় দেশের টিভি চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশনসহ ইন্টারনেট সেবাদানকারী সব প্রতিষ্ঠানই এখন বিদেশি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সব জেলা ও উপজেলায় এখনো সাবমেরিন ক্যাবলের নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি। এসব জায়গায় ইন্টারনেট সেবা দিতে হলে এখন একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে স্যাটেলাইট।
জেআই





