গত সোমবার গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনুসের উত্তর-পূর্বে আল-কারারা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী গোলরক্ষক সেলিম খাদের আল-আশকার। তিনি স্থানীয় ক্লাব ‘খাদামাত খান ইউনুস’-এর হয়ে গোলবার সামলাতেন। এছাড়া আল-আকসা ও আল-মুসাদ্দার স্পোর্টস ক্লাবেও খেলেছেন।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও সংবাদ সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুসারে, তিনি ওই এলাকায় থাকাকালীন সরাসরি হামলার শিকার হন।

সেলিমের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল নতুন স্বপ্নে ভরা। মাত্র পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। শীঘ্রই প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র ছেলে। তার এই অকাল মৃত্যু পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনা ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনের ভয়াবহ পরিসংখ্যানকে আরও ভারী করল। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত সংঘাতে ১,০০৯ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৫৬৭ জনই ফুটবলের সাথে যুক্ত।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জমজমাট আসর চলছে, অন্যদিকে গাজায় বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে, বারবার বাস্তুচ্যুত হয়ে এবং অবিরাম হামলার মধ্যে ফিলিস্তিনিরা বিশ্বকাপের একটি ম্যাচও স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারছেন না।

স্থানীয় ফুটবল কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম সেলিমকে চলমান সংঘাতের আরেক শিকার হিসেবে বর্ণনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। খান ইউনুসে তার জানাজায় উপস্থিত মানুষ খেলার মাঠের আলোর আড়ালে গাজার মানবিক বিপর্যয়ের দিকে বিশ্বের নজর ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে।

এনএইচ