মঙ্গলবার রাতে গালাতাসারাইয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে বার্সেলোনা। বল দখলে ৭১ শতাংশ এগিয়ে থাকা সফরকারীরা গোলের উদ্দেশ্যে ২২টি শট নেয়, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে গালাতাসারাইয়ের পাঁচটি শটের তিনটি লক্ষ্যে থাকলেও ম্যাচে আধিপত্য ছিল বার্সারই।

ম্যাচের ২৮ মিনিটে অবশ্য এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। রাফায়েল লেয়াওয়ের বাড়ানো বল পেয়ে অ্যালেক্সি বাতরাকভের শট বার্সেলোনার জোয়াও ক্যানসেলোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এতে পিছিয়ে পড়ে বার্সেলোনা।

৩২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল গালাতাসারাই। তবে অফসাইডের কারণে তাদের একটি গোল বাতিল হয়। এরপর আক্রমণের গতি বাড়িয়ে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। ৪৩ মিনিটে দানি ওলমোর শট অফসাইডে থাকা অ্যান্থনি গর্ডন ছেড়ে দিলে পেছন থেকে উঠে এসে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান ক্যানসেলো। এতে ১-১ সমতায় ফেরে বার্সা। সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরেই গোলের বন্যা বইয়ে দেয় বার্সেলোনা। ৫০ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফারমিন লোপেজ।

এর তিন মিনিট পর আবারও গোলের নেপথ্যে ইয়ামাল। তাঁর বাড়ানো বল পেয়ে কঠিন কোণ থেকে গালাতাসারাইয়ের জালে পাঠান গর্ডন। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১।

দুই গোলের লিড পাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে নেয় ফ্লিকের দল। ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন করিম আদেইয়েমি। মাঠে নামার মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন এই জার্মান উইঙ্গার। ইয়ামালের পাস থেকে গ্যাব্রিয়েল জেসুস বল নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলেও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন আদেইয়েমি।

বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

গোল না পেলেও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইয়ামাল। তাঁর দুটি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি পুরো ম্যাচজুড়েই গালাতাসারাইয়ের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট অর্জন করল বার্সেলোনা। একই সঙ্গে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দলটির টানা জয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ১০-এ।

এস