ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। জুড বেলিংহ্যামকে ফাউল করায় ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল হ্যারি কেইনের সামনে। কিন্তু স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির ফাউলের পর পাওয়া সেই পেনাল্টি ক্রসবারে মেরে বসেন ইংলিশ অধিনায়ক।
এরপরই যেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যায়।
শুরু থেকেই অবশ্য আক্রমণাত্মক ছিল স্পেন। ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে মার্ক গেহির ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল দখলে নেন লামিনে ইয়ামাল। এরপর গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ডকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন বার্সেলোনার এই তারকা।
৮ মিনিটে ফেরান তোরেস ব্যবধান বাড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপরও একাধিক সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১৬ মিনিটে ট্র্যাফোর্ডের বাধায় এবং ২৭ মিনিটে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় আর গোলের দেখা পাননি তোরেস।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড। ৩৬ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ের পর বক্সের বাইরে থেকে শটে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন। এতে ১-১ সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
চার মিনিট পরই ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। নিকো ও’রাইলির বাঁ প্রান্তের ক্রস থেকে হেড করেন হ্যারি কেইন। তাকে আটকাতে গিয়ে বল মার্ক কুকুরেয়ার উরুতে লেগে জালে ঢুকে যায়। গোলটি কেইনের নামেই যোগ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পেনাল্টি মিস করে ইংল্যান্ড। এরপর স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ৫৫ মিনিটে অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবালকে মাঠে নামান। বদলি হিসেবে নামার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে ম্যাচে প্রভাব ফেলেন বায়েনা।
নিকো ও’রাইলির ভুলের সুযোগ নিয়ে দানি ওলমোর পাস থেকে বক্সের বাইরে জোরালো শটে গোল করেন বায়েনা। এতে ২-২ সমতায় ফেরে স্পেন।
জয়সূচক গোলটি আসে ৭৪ মিনিটে। এবার গোলের কারিগর ওইয়ারসাবাল। বায়েনার পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক ট্র্যাফোর্ডকে সামনে এগিয়ে আসতে দেখে মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠান তিনি।
দুই বছর আগে ইউরোর ফাইনালেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেছিলেন ওইয়ারসাবাল। এবারও ইংলিশদের বিপক্ষে তার গোলেই জয় নিশ্চিত হলো স্পেনের।
শেষ দিকে আর সমতায় ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফলে ৩-২ ব্যবধানের জয় দিয়ে নেশনস লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন। বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই তাদের প্রথম ম্যাচ এবং জয় দিয়ে নতুন পথচলা শুরু করল দলটি।
এই জয়ের ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের অপরাজিত থাকার ধারাও ৩৯ ম্যাচে পৌঁছেছে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাদের সর্বশেষ পরাজয় এসেছিল ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
এস











