তবে সাফল্যের এই পথচলা তার জন্য সহজ ছিল না। নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া মারুফাকে ছোটবেলা থেকেই লড়তে হয়েছে অভাবের সঙ্গে। বাবার সঙ্গে মাঠে কৃষিকাজ করতেন তিনি। কর্দমাক্ত জমিতে লাঙলের হাল ধরা সেই ছবিটি এখনো অনেকের অনুপ্রেরণা।

সম্প্রতি আইসিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অতীতের কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে আবেগে ভেসে যান মারুফা।

তিনি বলেন, “কোথাও যদি বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠান হতো, আমাদের দাওয়াত দিত না। বলতো—ওদের তো ভালো ড্রেস নাই, ওরা গেলে মান-সম্মান থাকবে না। এমন অনেক কথা শুনেছি। এমনও সময় গেছে, যখন ঈদেও নতুন জামা কিনতে পারিনি।”

মারুফা আরও বলেন, “আমার বাবা একজন কৃষক। আমাদের পরিবারে টাকার অভাব ছিল সবসময়। আব্বা যখন বাজারে যেতেন, তখন অনেকে মাকে নানা কটু কথা বলতো। মা রুমে গিয়ে কাঁদতেন। আমি এক কোণায় বসে কাঁদতাম—আমার জন্য এমনটা হচ্ছে।”

তবে সমাজের অবজ্ঞা বা কষ্ট কোনো কিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। নিজের পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলে আজ তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।

“আমি ভাবতাম, ঠিক আছে, একদিন কিছু করে দেখাব। এখন আমি যেভাবে পরিবারকে সহায়তা করছি, অনেক ছেলে হয়তো সেটাও পারে না। এটা এক ধরনের শান্তি দেয়। ছোটবেলায় ভাবতাম, কবে মানুষ আমাদের এভাবে দেখবে, হাততালি দেবে। এখন টিভিতে নিজেকে দেখলে লজ্জা লাগে,”—হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

অভাব থেকে উঠে আসা এই তরুণীর গল্প আজ লাখো স্বপ্নবাজ তরুণীর জন্য প্রেরণার প্রতীক।

এনএইচ