হিজার পরার কারণে এশিয়ান গেমসে শেষ মুহুর্তে কোর্টে নামতে দেয়া হয়নি কাতার মহিলা বাস্কেটবল দলকে। অলিম্পিক নীতির বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল ফেডারেশনের (ফিবা) এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছে কাতার বাস্কেটবলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে কাতারের বেশিরভাগ মহিলা বাস্কেটবল খেলোয়াড়রাই মাথায় হিজার পড়ে কোর্টে নেমেছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তার অযুহাতে শেষ মুহূর্তে তাদেরকে খেলতে দেয়া হয়নি। মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে কোয়ালিফাইং রাউন্ডের মধ্য দিয়ে কাতারের মহিলা দলটির এশিয়ান গেমস মিশন শুরু করার কথা ছিল।
এ সম্পর্কে কাতার মহিলা স্পোর্টস কমিটির চেয়ারম্যান আহলাম আল মানা বলেছেন, ‘হিজাবের কারনে ফিবা আমাদের মহিলা দলটিকে খেলার অনুমতি দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে এশিয়ান গেমস থেকে আমাদের দলকে প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছে। এবারের এশিয়ান গেমসের স্লোগান হচ্ছে বৈচিত্র্য এখানে সমুজ্জ্বল। কিন্তু এখানে এর বিরোধিতা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নীতি অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি এই ধরনের গেমস আয়োজনের মাধ্যমে সকলের সামনে পরিচিত হয় এবং আইওসি সেটা সবদিক থেকেই সমর্থন করে। কিন্তু আজ আমাদের সাথে যা করা হয়েছে সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’
আল মানা আরো জানিয়েছেন, এই বিধি নিষেধের ব্যাপারে কাতার আগে থেকেই অবগত ছিল। কিন্তু তাদের আশা ছিল এশিয়াডে এসে তারা হয়তবা ফিবাকে মানাতে পারবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সমর্থ হবে। আন্তর্জাতিক ভাবে অনেক জায়গায়ই এই ধরনের হিজাব পড়ার ব্যাপারে বেশ নমনীয়তা প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশ কয়েকটি দেশই এবারের ইনচন গেমসে অংশ নেয়নি। একদিন ফিবা এই নিয়ম অবশ্যই পরিবর্তন করবে বলে আল মানা আশাবাদী। তার মতে ওসিএ অংশগ্রহণের ব্যপারে সব দেশকে উৎসাহিত করলেও এটা ফিবার টেকনিক্যাল সিদ্ধান্ত। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এর অবশ্যই পরিবর্তন হবে।
এই সিদ্ধান্তের পরে ফিবা কিংবা ওসিএ’র কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিফার নিষেধাজ্ঞার ব্যপারে নীতি পরিবর্তিত হওয়ায় মহিলা ফুটবলাররা হিজাব পরে খেলার অনুমতি পেয়েছে।
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেডআই





