পাঠকদের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে সংযোজন করেছে নতুন আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিন’।
শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর), ২৪ ভাদ্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২২ সফর ১৪৪৪ হিজরী। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
ঘটনাবলী:
১৩৮০ - কুলিকভোর যুদ্ধে রুশ সৈন্যরা তাতার এবং মঙ্গল সৈন্যের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করে তাদের অগ্রযাত্রা রুখে দেয়।
১৪৪৯ - ‘তুমু’ যুদ্ধে মঙ্গোলিয়ানরা চায়নিজ রাজত্ব দখলে নেয়।
১৫০৪ - মিকেলাঞ্জেলার ডেভিড চিত্রকর্মটি ফ্লোরেন্সে উন্মোচিত করা হয়।
১৫১৪ - ‘অরসা’ যুদ্ধ, শতাব্দীর একটি বড় যুদ্ধ এটি। লিথুনিয়ান এবং পোল্স রুশ সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছিল।
১৫৮৮ - ফরাসি ধর্মযাজক, দার্শনিক, গণিতবিদ ও সঙ্গীতজ্ঞ মারাঁ মের্সেন জন্মগ্রহন করেন।
১৭৬৩ - ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার পর প্যারিস সমঝোতা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত কানাডা ফরাসী দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হয় এবং বৃটেন ঐ চুক্তির প্রতি সমর্থন জানায়।
১৮৩১ - চতুর্থ উইলিয়ম গ্রেট ব্রিটেনের সম্রাট পদে অধিষ্ঠিত হন।
১৮৮৬ - দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গের পত্তন হয়।
১৯০৩ - বুলগেরিয়ার ৫০ হাজার মানুষকে হত্যা করে তুর্কিরা।
১৯০৭ - সান ইয়াত্ সেন চীনে প্রজাতান্ত্রিক আন্দোলন কুয়োমিনটাং গঠন করেন।
১৯৪১ - জার্মানীর নাৎসী বাহিনী তিন মাস ধরে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে হামলা চালানোর পর লেলিনগ্রাড অবরোধ করতে সক্ষম হয়।
১৯৪৩ - মিত্র শক্তির কাছে ইতালি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
১৯৫১ - সান ফ্রান্সিসকোতে ৪৯ টি দেশ জাপানের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
১৯৫২ - জেনেভায় বিশ্বের ৩৫ টি দেশের গ্রন্থস্বত্ব কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৫৪ - ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যৌথ প্রতিরক্ষা বিষয়ক সিটো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৬১ - সন্ধ্যায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট দ্য গল একটি গুপ্তহত্যার ঘটনায় রক্ষা পান।
১৯৬২ - চীন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হয়।
১৯৬৬ - জাতিসংঘের ই.এস.সি সংস্থার ১৪ তম অধিবেশনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, প্রত্যেক বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হবে।
১৯৭৩ - বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জায়ারে।
১৯৮১ - যুগোশ্লাভিয়া থেকে মেসিডোনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৯৩ - চীনের লাওনিং প্রদেশের ২০ বছর বয়সী যুবক খেলোয়াড় ওয়াং জুনসিয়া এবং ইয়ুনন্নান প্রদেশের ২৬ বছর বসয়ী খেলোয়াড় চোং হুয়াটি নারী ১০ হাজার মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় বিশ্ব রেকর্ড ভাঙ্গেন।
২০০১ - সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল তার অভিষেক টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড করেন।
২০২২ - দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে উন্মোচিত হল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ২৮ ফুট উচ্চতার কালো গ্রানাইটের মূর্তি।
জন্মদিন:
১৫৮৮ - মারাঁ মের্সেন, ফরাসি ধর্মযাজক, দার্শনিক, গণিতবিদ ও সঙ্গীতজ্ঞ।
১৭৬৭ - আউগুস্ট ভিলহেল্ম ফন শ্লেগেল, জার্মান কবি, অনুবাদক ও সমালোচক।
১৮৩০ - ফ্রেদেরিক মিস্ত্রাল, নোবেলজয়ী [১৯০৪] ফরাসি কবি। (মৃ.২৫/০৩/১৯১৪)
১৮৯২ - হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী, বাঙালি রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী।
হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী (জন্ম: সেপ্টেম্বর ৮, ১৮৯২ - মৃত্যু: ডিসেম্বর ৫, ১৯৬৩) ছিলেন একজন পূর্ব পাকিস্তানি বাঙালি রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী, যুক্তফ্রন্ট গঠনের মূলনেতাদের মধ্যে অন্যতম। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তাই সুধী সমাজ কর্তৃক ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত হন।
বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। তিনি ছিলেন বিচারপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দির কনিষ্ঠ সন্তান। জাহিদ সোহরাওয়ার্দি কলকাতা হাইকোর্টের একজন খ্যাতনামা বিচারক ছিলেন। মা ছিলেন নামকরা উর্দু সাহিত্যিক খুজাস্তা আখতার বানু, স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন তার মাতুল।
তার পরিবারের সদস্যবর্গ তৎকালীন ভারতবর্ষের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের প্রথা অনুসারে উর্দু ভাষা ব্যবহার করতেন। কিন্তু সোহরাওয়ার্দি নিজ উদ্যোগে বাংলা ভাষা শিখেন এবং বাংলার চর্চা করেন। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করার পর যোগ দেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে।
সেখান থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে তিনি স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর তিনি তার মায়ের অনুরোধে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে আরবি ভাষা এবং সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
১৯১৩ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক অর্জন করেন। এছাড়া এখানে তিনি আইন বিষয়েও পড়াশোনা করেন এবং ‘ব্যাচেলর অব সিভিল ল’ (বি. সি. এল.) ডিগ্রী অর্জন করেন।
১৯১৮ সালে গ্রে’স ইন থেকে ‘বার এট ল’ ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর ১৯২১ সালে কলকাতায় ফিরে এসে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।
১৯২০ সালে তিনি বেগম নিয়াজ ফাতেমাকে বিয়ে করেন। বেগম নিয়াজ ফাতেমা ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার আবদুর রহিমের কন্যা। ১৯২২ সালে তিনি মারা যান। তার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন পোলিশ বংশোদ্ভূত রাশিয়ান অভিনেত্রী বেগম বীরা সোহরাওয়ার্দী।
স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ১৯৬৩ সালে দেশের বাইরে যান এবং লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানকালে ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৩ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরে তাকে ঢাকায় আনা হয় ও ৮ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
১৯০৩ - অমলেন্দু দাশগুপ্ত, বাঙালি সাহিত্যিক ও ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী। (মৃ.০৮/০৯/১৯৫৫)
১৯১২ - কমরুদ্দীন আহমদ, লেখক ও রাজনীতিক।
১৯১৮ - ডেরেক রিচার্ড বার্টন, নোবেলজয়ী [১৯৬৯] জৈবরসায়নবিদ বিজ্ঞানী।
১৯১৯ - নিরঞ্জন ধর, যুক্তিবাদী সমাজবিজ্ঞানী ও মানবতাবাদী ঐতিহাসিক। (মৃ.০৮/০৩/২০০২)
১৯২৬ - ভুপেন হাজারিকা, স্বনামধন্য ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী। (মৃ.০৫/১১/২০১১)
১৯৩৩ - আশা ভোঁসলে, ভারতীয় গায়িকা।
১৯৪৫ - শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। (মৃ. ২০২০)
১৯৫৫ - ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
১৯৫৬ - অঞ্জু ঘোষ, বাংলাদেশি অভিনেত্রী।
মৃত্যুবার্ষিকী:
১৯৩৩ - প্রথম ফয়সাল, আরব বিদ্রোহের অন্যতম নেতা এবং ইরাকের প্রথম বাদশাহ।
১৯৩৯ - স্বামী অভেদানন্দ, হিন্দু সন্ন্যাসী, রামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠের প্রতিষ্ঠাতা। (জ.১৮৬৬)
১৯৪৩ - জুলিয়াস ফুচিক, চেক লেখক, সমালোচক, সাংবাদিক ও বামপন্থী স্বাধীনতা সংগ্রামী।
১৯৪৯- রিচার্ড স্ট্রস, জার্মানীর বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ।
১৯৫৫ - অমলেন্দু দাশগুপ্ত, বাঙালি সাহিত্যিক ও ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী। (জ.০৮/০৯/১৯০৩)
১৯৬৫ - হেরমান স্টাউডিঞ্জার, নোবেলজয়ী [১৯৫৩] জার্মান রসায়নবিদ।
১৯৮৭ - শৈলেন্দ্র নারায়ণ ঘোষাল শাস্ত্রী,বাঙালি বৈদিক পণ্ডিত ও বৈদিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা। (জ.০৫/০৩/১৯২৮)
২০১৯ - ইউসুফ মুতালা, পাকিস্তানি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত ও দায়ী।
২০২২ - বৃটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। (জ.১৯২৬)
দিবস:
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস।
এন





