বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছিল। এর মধ্যেই ফেরি আটকে যাওয়ায় মাঝসমুদ্রে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় রাত কাটছে তাদের।
ফেরিটিতে দুটি যাত্রীবাহী বাস, সাতটি ছোট-বড় ট্রাক এবং বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেরিতে তিন শতাধিক আরোহী রয়েছেন।
যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ফেরির ক্যানটিনে পর্যাপ্ত খাবার মজুত নেই। আবার এই সংকটের সুযোগ নিয়ে সাধারণ শুকনো খাবারও বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এক যাত্রীর দাবি, ১০ টাকার এক প্যাকেট চানাচুর ২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
আটকে পড়া এক যাত্রী বলেন, অন্ধকারের মধ্যে সাগরে আটকে আছেন তারা। কখন চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে সবার মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা রয়েছে। এমন জায়গায় আটকে পড়েছেন, যেখানে ফেরি থেকে নেমে বাড়িতেও ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে মূল ভূখণ্ডের দিকে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে। তবে সেখানে নিয়মিত খনন না হওয়ায় নাব্যতা সংকট তীব্র হয়েছে। ফলে ভরা জোয়ার ছাড়া পন্টুনে ফেরির প্রবেশ ও বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাতে জোয়ার এলে ফেরিটি পানিতে ভেসে উঠবে। তখন পুনরায় বাঁশবাড়িয়ার দিকে যাত্রা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তবে জোয়ার-ভাটার সময় বিবেচনা না করে ফেরি পরিচালনার ঘটনায় মাস্টারের গাফিলতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ফেরি পরিচালনার ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার সময় অনুযায়ী চলাচলের সূচি নির্ধারণ করতে হয়। এ ঘটনায় ফেরির মাস্টার দায়ী।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান জানান, রাতের জোয়ারে ফেরিটি স্বাভাবিকভাবে ভেসে উঠতে না পারলে উদ্ধারকারী জাহাজ বা টাগবোট দিয়ে সেটিকে টেনে ডুবোচর থেকে মুক্ত করা হবে।
এর আগে আবহাওয়া সতর্কতার কারণে সন্দ্বীপ-বাঁশবাড়িয়া রুটে টানা চার দিন নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে গুপ্তছড়া ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই ডুবোচরে আটকে যায় ফেরি ‘কপোতাক্ষ’।
এনএইচ