শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিনের উদ্যোগে স্থানীয় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগেই মঞ্চে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মঞ্চের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অতিরিক্ত মানুষকে নেমে যাওয়ার জন্য মাইকে বেশ কয়েকবার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনায় কান দেননি অতি-উৎসাহী নেতা-কর্মীরা।

এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মঞ্চে এসে আসন গ্রহণ করলে, তার সঙ্গে আরও এক ঝাঁক নেতা-কর্মী একযোগে মঞ্চে উঠে পড়েন। অতিরিক্ত মানুষের এই বিপুল ভার সইতে না পেরে মুহূর্তের মধ্যেই মঞ্চটি ভেঙে পড়ে। মঞ্চ ভেঙে পড়ার সাথে সাথে অনুষ্ঠানস্থলে চরম হট্টগোল ও আতঙ্ক তৈরি হয়। মঞ্চ ভেঙে গেলেও কেউ নিচে পড়ে যাননি বা বড় কোনো আঘাত পাননি।

জানতে চাইলে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমান বলেন, ‘মঞ্চ ভেঙে গেছে বিষয়টি এমন না, মঞ্চের টেবিলগুলো আছে, সেগুলোর কয়েকটির পায়া বসে যাওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে অর্থমন্ত্রী মহোদয় সেই ভাঙা মঞ্চে দাঁড়িয়েই উপস্থিত কয়েকজন বন্যার্তের হাতে ত্রাণ তুলে দেন এবং অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।’

ঘটনার সময় অর্থমন্ত্রীর ঠিক পাশেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ ওঠার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘আমি নিজে মাইকে ঘোষণা দিয়েছিলাম যাতে মঞ্চে বেশি মানুষ না ওঠে। কিন্তু মানুষের অতি-উৎসাহ আর ভারের কারণেই শেষ পর্যন্ত মঞ্চটি ভেঙে গেল। আল্লাহর রহমতে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি, এটাই স্বস্তির।’

দুর্ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও মন্ত্রীর সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণ শেষ করার বিষয়টি উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এমএম