মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্তরা বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার কার্যালয়ে একটি দলিলের ভিত্তিতে নামজারির আবেদন করেন। আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া দলিলটি পর্যালোচনার সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে দলিলটি জাল বলে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি বাবুগঞ্জ থানাকে জানানো হয়।

পরে মাধবপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪, ৫, ৬(২) ও ১৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা হলেন মো. নাঈম (৩৫), মো. নূর ইসলাম মোল্লা (৫৭), মো. আব্দুর রহিম (৫৫) এবং মো. তোফাজ্জেল হোসেন টিয়া (৬০)। তারা সবাই বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের হাদীবাঁশকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত আব্দুর রহিম স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি।

পুলিশ জানায়, চার আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিভিন্ন ধরনের দালালি ও তদবিরের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নামজারি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, "নামজারি, ভুয়া দলিল কিংবা ভূমি-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে কেউ যদি প্রতারণা বা দালালির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, "জাল দলিল ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে নামজারির চেষ্টার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

ভূমি-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এস