শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জমি পরিমাপ, সীমানা নির্ধারণ এবং লাল পতাকা টানিয়ে সরকারি দখল নিশ্চিত করার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান বাধা দূর হয়েছে।
এসময় মাদারীপুর সদর উপজেলার চর ব্রাহ্মন্দী মৌজার তিন একর জমির জায়গা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহান্দারী আলী মিয়া।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু, মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আবু আহম্মদ ফিরোজ ইলিয়াস, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের ২৫টি শহরে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মাদারীপুর পৌরসভায় একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়ন করতে মাদারীপুর সদর উপজেলার ব্রাহ্মন্দী এলাকার সরকারী প্রায় সাড়ে পাঁচ একর জমি থেকে তিন একর জমি নির্ধারণ করা হয়। তবে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির দখলে থাকায় জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে প্রকল্পের অচলাবস্থা নিরসনের জন্য গত ৩ জুন ব্রাহ্মন্দী এলাকায় স্থানীয়দের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া, মাদারীপুর স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মুরাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাত হাওলাদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়। সভায় প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে দ্রুত জমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের ব্যাপারে কথা বলেন তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার জেলা প্রশাসনের সার্ভেয়ার, আমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ডাম্পিং স্টেশনের জন্য নির্ধারিত জমির সীমানা চিহ্নিত করে লাল পতাকা টানিয়ে সরকারি দখল নিশ্চিত করেন। আর এর মধ্য দিয়ে মাদারীপুর পৌরবাসীর জন্য দীর্ঘ দিনের চাওয়া আধুনিক ডাম্পিং স্টেশনের প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। এতে করে খুশি পৌরবাসী।
দেড়শো বছরের পুরনো প্রথম শ্রেণির মাদারীপুর পৌরসভায় কোন ডাম্পিং স্টেশন ছিল না। এতে করে শহরের বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা বিভিন্ন সড়কের পাশে ফেলা হয় দীর্ঘদিন ধরে। এতে করে চারদিকে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে পৌরবাসী। এছাড়াও পরিবেশও ভারসাম্য হারাচ্ছিলো, চরমভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে পরিবেশসহ মানুষজন। পাশাপাশি নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছিল পৌরবাসী। তাই পৌরবাসীর ভোগান্তির কথা চিন্তা করে সরকারি খাস জমিতে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পৌরসভা। এটি বাস্তবায়ন করা হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষের কর্মসংস্থানও হবে বলে জানান পৌরকর্তৃপক্ষ।
মাদারীপুর শহরের পৌর এলাকার বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের। আজ তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুব খুশি।
আরেক বাসিন্দা সাবরিনা জাহান বলেন, শহরের আনাচে কানাচে ময়লার স্তূপ হয়ে থাকে। এ উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা খুব খুশি।
মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দারী আলী মিয়া বলেন, দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মিত হলে মাদারীপুর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। পরিবেশ দূষণ কমবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং নগরবাসী আধুনিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুফল ভোগ করবেন।
তিনি আরও বলেন, ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ কাজ শেষ হলে চর ব্রাহ্মন্দী’র আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে একটি ইকোপার্কও তৈরি করা হবে। সাধারণ মানুষ বিনোদন উপভোগ করতে পারবে। মুক্ত বাতাসে ঘুরতে পারবেন ভ্রমণ ও বিনোদনপিপাসুরা। পাশাপাশি এটি পুরোপুরি চালু হলে গড়ে উঠবে কর্মসংস্থানও। সেই লক্ষ্য নিয়ে দ্রুত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত পৌরবাসীর আশা পূরণ হবে।
মাদারীপুর স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, মাদারীপুর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা ছিল। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বর্জ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও অপসারণে জটিলতা সৃষ্টি হতো। আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মিত হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। পৌরবাসী আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা পাবেন এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
এমএম