বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গতকাল ৩ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ বিজিবির খারনই বিওপির ৬ সদস্যের একটি বিশেষ টহল দল এই চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত মেইন পিলার ১১৭৬/৫-এস থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলমাকান্দা উপজেলার ৬ নম্বর খারনই ইউনিয়নের ‘সরুজের মোড়’ নামক স্থানে ওঁৎ পেতে থাকে বিজিবি দল।
অভিযান চলাকালীন ভারত সীমান্ত থেকে আসা একটি মিনি ট্রাককে চ্যালেঞ্জ করলে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা ট্রাকটি রাস্তায় ফেলে রেখেই অন্ধকারের সুযোগে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৬ ড্রাম ভারতীয় ‘হাইড্রোক্সিজিন হাইড্রোক্লোরাইড ইউএসপি’ (Hydroxyzine Hydrochloride USP) কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ১৬ ড্রাম কেমিক্যালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩২ লাখ টাকা এবং জব্দকৃত মিনি ট্রাকটির মূল্য ১৮ লাখ টাকা। জব্দকৃত কেমিক্যাল এবং পাচারে ব্যবহৃত মিনি ট্রাকটির সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘হাইড্রোক্সিজিন হাইড্রোক্লোরাইড’ মূলত সাধারণ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, প্রেসক্রিপশন ছাড়া এর অবাধ ব্যবহার ও চোরাচালানের মূল কারণ হলো মাদক হিসেবে এর অপব্যবহার।
নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) এর অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী, পিএসসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ধরনের কেমিক্যাল আমরা এর আগে কখনো ধরিনি। এটা সম্পর্কে যতটুক খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, এটি মূলত মেডিসিন বানানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। আটককৃত কেমিক্যাল ও ট্রাকটি নেত্রকোণা কাষ্টমস অফিসে জমা করার প্রক্রিয়া চলছে। কেমিক্যালটি মাদক হিসেবে ব্যবহার হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের তেমন কোনো আইডিয়া নেই। তবে এটা যে ধরনের কেমিক্যাল সেটা অন্যান্য মাদকদ্রব্যের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া সেটি সরাসরি বলার সুযোগ নেই।
এস