গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর পল্লবী থেকে অভিযুক্ত মো. বাবলু কাজীকে (৬০) গ্রেপ্তার করে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি দল।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানান, বাবলু কাজী ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তারা উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও প্রজ্ঞাপন তৈরি করে চাকরিপ্রার্থীদের দিতেন।

গত ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকার মো. সবুজ সরকার নামে এক ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বাবলু কাজীর সংশ্লিষ্টতা পায় ডিবি।

গ্রেপ্তারের সময় বাবলুর কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সিলযুক্ত ও জাল স্বাক্ষর করা ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র, প্রজ্ঞাপন এবং নকল হাজিরা খাতা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিয়াজ মেহেদী জানান, চক্রটি ছিল অত্যন্ত চতুর ও সংঘবদ্ধ। সাধারণ মানুষের আনাগোনা বেশি এমন সরকারি অফিসগুলোকে তারা টার্গেট করতো। চক্রের একজন নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্যরা তার গাড়িচালক কিংবা অফিস সহকারী পরিচয় দিয়ে সরকারি অফিসে অবাধে চলাফেরা করত। এভাবে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতো তারা।

চক্রের সদস্যরা কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। এমনকি চাকরিতে যোগদানের পর টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলতেন। এতে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা তৈরি হতো।

পরে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন দেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নকল হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করানো হতো। প্রতারণা আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম এক থেকে দুই মাস নিজেদের পকেট থেকে ‘বেতন’ হিসেবে কিছু টাকাও দেওয়া হতো। এরপর বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেত।

এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার বাবলু কাজীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এমএম