মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জেলা পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজেও একটি মাইক্রোবাসে করে দুজনকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
ডিবির মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয় দুজনকে
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের এক নেত্রীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে রাঙামাটি থেকে দুজনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে মামলার বিষয়ে রাঙামাটি পুলিশকে এর চেয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামালউদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা পরিষদের সামনে থেকে প্রথমে সাবেক ছাত্রদল নেতা আলী আকবর সুমনকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
তিনি জানান, সুমনকে ডিবি পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর ফোন পেয়ে সেখানে যান সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী। পরে ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে সৈকতের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকেও আটক করে ডিবি পুলিশ সুমনের সঙ্গে নিয়ে যায়।
সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য
রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর নাম আসামি হিসেবে রয়েছে কি না, সেটি তাঁদের জানা নেই।
তিনি বলেন, আলী আকবর সুমনকে আটকের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর কারণেই সৈকতকে আটক করা হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। সাংবাদিক সৈকতের মুক্তির দাবি জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মামলা
সম্প্রতি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নারী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওই নেত্রী রাজধানীর শাহবাগ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে রাঙামাটি থেকে আলী আকবর সুমন ও সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।
তবে মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তাঁরা কীভাবে ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত-এ বিষয়ে রাঙামাটি পুলিশ বা ডিবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সিসিটিভি ফুটেজে আটকের দৃশ্য
আলী আকবর সুমন ও সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে ডিবির একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে কেন আটক করা হয়েছে এবং মামলায় তাঁর অবস্থান কী-তা স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।
রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ বলেন, সাংবাদিক সৈকতের আটকের বিষয়ে সাংবাদিক সমাজ উদ্বিগ্ন। তাঁর দাবি, মামলায় সাংবাদিকের নাম থাকলে আইন অনুযায়ী বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত; আর মামলায় নাম না থাকলে তাঁকে আটকের কারণও জানানো প্রয়োজন।
তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, সেদিকে নজর
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই রাঙামাটি থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী নেওয়া হয়েছে বা আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিওকে কেন্দ্র করে করা মামলাটির তদন্তে আটক দুজনের সম্পৃক্ততা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের পরই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর আটকের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোও নজর রাখছে।
এদিকে, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনকে আটকের ঘটনায় তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মামলার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা এবং আটকের কারণ স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এমএম