গত সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, এবার ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার শুধু পাসের হারই কমেনি, ভালো জিপিএ প্রাপ্তিও আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। এবার পাস করা মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেকই জিপিএ-৩-এর কম পেয়েছে, শতাংশের হিসাবে যা ৫০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

জিপিএ-৪-এর কম পেয়েছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৫২৩ জন, যা মোট পাস করা শিক্ষার্থীর ৬০ শতাংশ। আর জিপিএ-৪ বা এর বেশি পেয়েছে চার লাখ ৬০ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৪০ শতাংশ।

এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তিও কমেছে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। কয়েক বছরের ধারাবাহিক চিত্র সামনে আনলে এবারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন; ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন; ২০২৪ সালে এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এসএসসির পরীক্ষার এ ফল শিক্ষার মান, ভালো শিক্ষকের সংকট, শিক্ষায় গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য ও দারিদ্র্য বৃদ্ধিসহ বিদ্যমান সামাজিক সংকটও স্পষ্ট করেছে।

যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম বলেন, ‘নম্বর বেশি দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাসের হার যেমন কমেছে, তেমনি জিপিএ প্রাপ্তিতেও শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে গেছে।’ মোবাইল ফোন ব্যবহারে বেশি আসক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে বলেও দাবি যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যানের।

জিপিএ প্রাপ্তিতে পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে শিক্ষকরা অবশ্য ভিন্নকথা বলছেন। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোতে গণিতের শিক্ষক সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে নিয়মিত আসছে না। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, মোবাইল আসক্তিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিক্ষক সংকট প্রকট। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। আবার গ্রামের শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে খুবই অসচ্ছল। গ্রাম ও শহরের বৈষম্যও এখানে বিদ্যমান। শিক্ষক সংকট কাটিয়ে ওঠা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং বৈষম্য কমাতে পারলে ফেল ও খারাপ ফলাফলের প্রবণতা কমবে।

এনএইচ