অভিযোগ আছে, গত এক বছর ধরে অনলাইন সহ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শিক্ষা সনদ বিক্রি করে আসছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের টিম একটি অনুসন্ধান পরিচালনা করে।

অনুসন্ধানের সুবিধার্থে পরিচয় গোপন করে আমরা গত মার্চে সরাসরি ইউনিভার্সিটির সাথে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করি।

ইউনিভার্সিটির দুইটি টিএনটি নাম্বার এর মধ্যে একটি নাম্বার থেকে আমাদেরকে পার্মানেন্ট ক্যাম্পাস ভৈরবের একজনের নাম্বার দেওয়া হয় যার নাম মতিউর। প্রথমে তিনি অপারগতা দেখানোর পরে এক পর্যায়ে বলেন ঢাকা থেকে আপনাদের সাথে একজন যোগাযোগ করবে। সে অনুযায়ী আমরা অপেক্ষা করতে থাকি।

পরদিন ঢাকা থেকে আজাদ নামে এক ব্যক্তি আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। ওনার বাসা ধানমন্ডিতে বলে পরিচয় দেন এবং উনি বিএনপির একজন কর্মী বলেও দাবি করেন।

এরপর বেরিয়ে আসতে শুরু করে আসল রুপ। প্রথমে শিক্ষা সনদের জন্য আমাদের কাছে এক লক্ষ টাকা দাবি করেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু শর্ত দিচ্ছিলেন উনি নিজে আমাদেরকে সবকিছু দিবেন। অর্থাৎ অনলাইন আইডি পাসওয়ার্ড উনি নিজে আমাদেরকে দিবেন। আমরা তাতে রাজি না হলে উনি জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে পাবেন তবে টাকার অঙ্ক বাড়াতে হবে। এরপর দেড় লক্ষ টাকায় চুক্তি হয়।

এরপর আমরা ধানমন্ডির একটি এজেন্ট নাম্বারে তিন দফায় ৭৫ হাজার টাকা পাঠাই। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার অফিসের একজন ও সহকারি রেজিস্ট্রার মুশফিকুর রহমান নামে একজনের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার

আমাদেরকে দেওয়া হয়। বলা হয় ১৩ অথবা ১৪ মার্চ অনলাইন হয়ে যাবে। তখন আমরা ১৪ই মার্চ তার সাথে যোগাযোগ করি তিনি আমাদেরকে আইডি দেয় এবং সেই সাথে পাসওয়ার্ডও দেয়।

শর্ত অনুযায়ী পরে আরেকটা এজেন্ট নাম্বারে আমরা আরও ৫০ হাজার টাকা পাঠাই। এবং মুশফিকুর রহমানের কাছ থেকে আমরা ইমেইল আইডি চাই যেখানে আমরা ভেরিফিকেশন করব। তিনি আমাদেরকে রয়েল ইউনিভার্সিটি অফ ঢাকা'র রেজিস্ট্রার এবং তার নিজের অফিসিয়াল ইমেইল দেন। আমরা ২৫ মার্চ মেইল করি এবং ২৭ মার্চ রেজিস্ট্রার অফিস থেকে আমরা ইমেইল পাই যে আবেদনকারীর ডকুমেন্টটা সঠিক।

এর আগের দিন আমাদের ঠিকানায় ইউনিভার্সিটির অফিসিয়াল খামে পাঠাও দিয়ে সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট পাঠায় তারা। আগের চুক্তি অনুযায়ী বাকি ২৫ হাজার টাকা আমরা তখন তেজগাঁ অবস্থিত একটি বিকাশের এজেন্ট নাম্বারে পাঠিয়ে দেই।

তবে পরে এ বিষয় সাংবাদিক পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এনএইচ