সকাল ১০টায় একযোগে ফল প্রকাশ, অনলাইন-এসএমএসে জানা যাবে; ১১ আগস্ট থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন।
ফল প্রকাশ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করবেন। এরপর পরীক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইন, মোবাইল ফোনের এসএমএস এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, সকাল ১০টায় একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ের শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতেও ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
যেভাবে ফল জানা যাবে
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল দেখতে পারবেন। এ ছাড়া দুটি অভিন্ন ওয়েবসাইটেও ফল পাওয়া যাবে—
eduboardresult.gov.bd
educationboardresults.gov.bd
শিক্ষার্থীরা রোল ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফলাফল দেখতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবভিত্তিক ফলাফল ব্যবস্থাতেও পরীক্ষার নাম, বছর, বোর্ড, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ফল যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
অনলাইন ব্যবস্থায় চাপ বাড়লে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী ফল জানতে চেষ্টা করায় ওয়েবসাইটে সাময়িক ধীরগতি দেখা দিতে পারে।
এসএমএসে ফল দেখার নিয়ম
অনলাইনের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাবে।
মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে:
SSC <বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর> <রোল নম্বর> <পরীক্ষার বছর>
এরপর পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
উদাহরণ হিসেবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থী লিখবেন:
SSC DHA ROLL 2026
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য:
SSC MAD ROLL 2026
আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীদের জন্য:
SSC TEC ROLL 2026
এসএমএস পাঠানোর পর ফিরতি বার্তায় ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ১৬২২২ নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানার ব্যবস্থা রয়েছে।
এবার পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজার
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে।
এর মধ্যে, সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন,মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন,কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। ফলে আজকের ফলের দিকে তাকিয়ে আছে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার।
পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল
এবারের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফল ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশের প্রত্যাশা ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ পর ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। ফল প্রকাশের তারিখ ১০ আগস্ট নির্ধারণের বিষয়টি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জুলাইয়ের শেষ দিকে ঘোষণা করেছিল।
দাখিল ও ভোকেশনালের ফলও একই সময়ে
এসএসসির পাশাপাশি আজ সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে দাখিল এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের Result অংশে গিয়ে প্রতিষ্ঠান কোড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক Result Sheet ডাউনলোড করা যাবে। শিক্ষার্থীরা রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনেও ফল দেখতে পারবেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও বোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন সেবার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষার ফল জানতে পারবেন।
ফল প্রত্যাশিত না হলে পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ
ফল প্রকাশের পর কোনো পরীক্ষার্থী তার প্রাপ্ত ফল নিয়ে সন্তুষ্ট না হলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ১১ আগস্ট থেকে পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ
ফল প্রকাশের দিন অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক একসঙ্গে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করায় সার্ভারে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময়ের পর কিছুটা সময় অপেক্ষা করে পুনরায় চেষ্টা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ফলাফল প্রত্যাশামতো না হলেও শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা। এসএসসির ফলাফল শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটিই ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র মানদণ্ড নয়।
আজকের ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক মাসের অপেক্ষা। লাখো শিক্ষার্থীর সামনে খুলে যাবে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়ের দরজা।
এমএম