রোববার (১৬ আগস্ট) কায়রোর বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মর্মান্তিক এ ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
দূতাবাসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় গত ৩ আগস্ট ৩৮ জন বাংলাদেশি ও ৪ জন সুদানিসহ মোট ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে একটি রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ইঞ্জিনচালিত নৌকাটিতে উপযুক্ত কোনো নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রীদের ৩৬ ঘণ্টার গন্তব্যের কথা বলা হলেও মাঝপথে নেভিগেশন গোলযোগ ও জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে এবং টানা ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকে।
টানা ১০ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার সময় তীব্র গরম, প্রখর সূর্যতাপ এবং খাদ্য ও পানির অভাবে ১০ জন যাত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যান। মৃতদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন সুদানি নাগরিক। দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থানের কারণে মৃতদেহে পচন ধরায় জীবিত যাত্রীরা বাধ্য হয়ে লাশগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দেন বলে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউরোপে যাওয়া পথে ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু
পরে গত ১৩ আগস্ট দিকভ্রষ্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে স্থানীয় পুলিশ যাত্রীদের উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন থাকায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ দূতাবাস মিশরের স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপন করে।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ২৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকই মিশরীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কায়রোর বাংলাদেশ দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কনসুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থ ব্যক্তিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের প্রচলিত আইন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএম