বুধবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন. বিএইচডি. কারখানায় কাজ করেন। বাংলাদেশিদের পাশাপাশি মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের নাগরিকরাও রয়েছেন সেখানে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, চাকরির চুক্তিতে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের কথা থাকলেও তাঁদের দিয়ে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়। এর বিনিময়ে দেওয়া হয় মাত্র ৬৫ রিঙ্গিত মজুরি। নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটিও দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ তাঁদের।

শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, বার্ষিক ছুটিতে দেশে যাওয়ার সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত জামানত নেওয়া হয়। মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার কথা বলে এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

বেতন না পাওয়ার বিষয়টি কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের কাছে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযোগ জানানোর পরও এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা কারখানায় তদন্তে আসেননি বলে দাবি তাঁদের।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পেয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন শ্রমিকেরা।

বাংলাদেশি শ্রমিকদের একজন মুখপাত্র জানান, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে আসতে প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এর বড় অংশ ব্যাংকঋণ, জমি বন্ধক রাখা অথবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকেরা মালয়েশিয়ায় যেমন আর্থিক সংকটে রয়েছেন, দেশে থাকা তাঁদের পরিবারও একইভাবে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। কারণ অনেক পরিবারই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভরশীল।

ওই শ্রমিক নেতা আরও অভিযোগ করেন, কোম্পানি শ্রমিকদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে। তাঁর দাবি, এটি চাকরির চুক্তির শর্তেরও লঙ্ঘন।

অন্যদিকে শ্রমিকদের বেতন দিতে দেরি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, কিছু সমস্যার কারণে বেতন পরিশোধে বিলম্ব হয়েছে। ইতোমধ্যে বকেয়া বেতনের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়েছে।

তবে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

কোম্পানির দাবি, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করার কোনো সিদ্ধান্ত তাদের নেই। যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া বেতন পরিশোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে কোম্পানির প্রস্তাবিত পরিশোধ পরিকল্পনা শ্রমিকেরা গ্রহণ করতে রাজি নন বলে দাবি করেছেন মুখপাত্র। এ কারণে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

শ্রমিকদের আচরণকে ‘আক্রমণাত্মক’ আখ্যা দিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি বলেন, শ্রমিকদের আর্থিক দাবির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কোম্পানির আরও দাবি, প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে শ্রমিকেরা অন্যান্য অভিযোগও অতিরঞ্জিত করছেন।

এস