রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাখারোভা বলেন, পরিকল্পনাটি সম্ভবত ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ইউরেনকো এ ধরনের পণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী।
তিনি জানান, ইউক্রেনের নিজস্বভাবে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের শিল্প সক্ষমতা রয়েছে বলে রাশিয়ার জানা নেই। তাই তার ধারণা, ইউরেনিয়াম সরাসরি ইউক্রেনে নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানায়—সম্ভবত ওয়েস্টিংহাউস-এ পাঠানো হবে।
জাখারোভা বলেন, লন্ডনের বক্তব্য অনুযায়ী এই চুক্তির সঙ্গে তথাকথিত ‘ডার্টি বোমা’ বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অস্ত্র তৈরির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রপ্তানিকারক দেশকে নিশ্চিত করতে হবে যে ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী তাদের দায়বদ্ধতা কঠোরভাবে পালন করবে এবং সরবরাহ করা উপাদান নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করবে।
তিনি আরও বলেন, এসব শর্ত পূরণ হলে এই সরবরাহ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক উপাদানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে।
তবে জাখারোভার দাবি, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক নয়, বরং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থান এমন সময় এসেছে, যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এর কর্মীদের আবাসস্থল এনারহোদার শহরে সরাসরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রাশিয়ার দাবি। এ বিষয়ে লন্ডনের পক্ষ থেকে কোনো নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাখারোভা বলেন, এই নীরবতাই পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে স্পষ্ট করে। তাই ইউক্রেনকে দেয়া ব্রিটিশ সহায়তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাশিয়ার কোনো বিভ্রম নেই।
এনএইচ