বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’ বুধবার (২২ জুলাই) বাসস এ সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ফারুক আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের পর মহাসড়কে যানবাহন থেকে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের অর্থ আদায়ের অভিযোগ আর থাকবে না।
তিনি জানান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় অপরাধ ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
ফারুক আহমেদ বলেন, পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন সিসিটিভি কভারেজের মধ্যে রয়েছে। এ রুটের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা বসানো হয়েছে। একই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও কার্যকর করা হয়েছে। ফলে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পরিস্থিতি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি জানান, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের এআই ক্যামেরাগুলো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থাপনা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার জন্য শিগগিরই হাইওয়ে পুলিশ ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই নজরদারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ প্রধানের মতে, আধুনিক এই প্রযুক্তি মহাসড়কে ডাকাতি, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং যানজট নিরসনেও এটি কার্যকর হবে।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে।
ফারুক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করাই হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জনআস্থা বাড়াতে এবং মহাসড়কের নিরাপত্তা জোরদার করতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমও আরও শক্তিশালী করা হবে।
বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ দেশের ৭৩টি থানার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১১ জুন প্রতিষ্ঠিত হাইওয়ে পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সংস্থাটি বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার ৮০৬ কিলোমিটার মহাসড়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছে।
এস