নতুন ভবনটি চালু হলে হাসপাতালটির মোট শয্যা সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে দেশের বৃহত্তম বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে আরও বিস্তৃত পরিসরে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অধিকাংশ চিকিৎসা সরঞ্জামও স্থাপন করা হয়েছে। ১৫ তলা ভবনটির নিচের তিনটি তলা বেজমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সেখানে পার্কিং ও সার্ভিস সেকশনের ব্যবস্থা রয়েছে। ওপরের ১২ তলায় থাকবে ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক ইউনিট।

নতুন ভবনে রয়েছে ৪০ শয্যার আইসিইউ, ২০ শয্যার এইচডিইউ, ৬২টি ভেন্টিলেটর, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ বেড এবং ১১২টি কেবিন। এছাড়া ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিট ও ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচার সুবিধাও রাখা হয়েছে।

চারটি অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে দুটি মডুলার ওটি। জার্মান প্রযুক্তির এসব অপারেশন থিয়েটারে নিয়ন্ত্রিত ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভবনটি সম্পূর্ণ সেন্ট্রাল এসি সুবিধাসম্পন্ন। এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে রোগী স্থানান্তরের সুবিধায় এক থেকে তিনতলা পর্যন্ত স্কেলেটরও স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের সুবিধা প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এছাড়া নতুন ভবনে একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরআই ও দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন, অত্যাধুনিক অটোক্লেভ, সলিড ওয়েস্ট ডিজপোজাল সিস্টেম এবং পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্ট রয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা নিতে আসেন স্ট্রোকের রোগীরা। এরপর রয়েছে দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগী। পাশাপাশি পার্কিনসন্স, ডিমেনশিয়া, জিবিএস, মৃগী ও হাইড্রোকেফালাসসহ বিভিন্ন স্নায়ুরোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান বাসসকে বলেন, নতুন ভবন চালু হলে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হবে। বর্তমানে শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়। নতুন ভবন চালুর পর এই সংকট অনেকটাই কমবে এবং আরও বেশি রোগীকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তার জন্মদিনে তার পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন ভবনটির উদ্বোধন করবেন—এটি হাসপাতালের জন্য গর্বের বিষয়।

সূত্র: বাসস

এস