এই মূল্যায়নের পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন থাকলেও বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, আপাতত বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বরং একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ এমপিকে মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপিকে প্রতিমন্ত্রী এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ে শামীম কায়সার লিংকন এমপিকে প্রতিমন্ত্রী করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বর্তমান কাঠামো মোটামুটি অপরিবর্তিত রেখে নতুন চারজনকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার সম্ভাবনাই বেশি। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, কাউকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বরং ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের পর কোন মন্ত্রণালয়ে কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
বর্তমানে অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে একজন মন্ত্রীর ওপর একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে।
একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ওপর কাজের চাপ বাড়ছে। ফলে প্রশাসনিক চাপ কমানোর পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী কাজে আরও মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন। সেই কর্মপরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়ে এক প্রভাবশালী সদস্য বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়নের একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি প্রয়োজন মনে করলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদও বলেছেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির মূল্যায়ন করা হবে। গত ছয় মাসে মন্ত্রীরা কতটা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছেন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
সব মিলিয়ে, সরকারের প্রথম ছয় মাসের মূল্যায়নের পর বড় ধরনের মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের চেয়ে দায়িত্বের ভারসাম্য আনা এবং সীমিত পরিসরে নতুন সদস্য যুক্ত করার সম্ভাবনাই বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভর করছে।
এস