সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তারা সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে শিপইয়ার্ডে একটি পুরোনো জাহাজ কাটার কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে বেশ কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হন।
বিস্ফোরণের পর সহকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শিপইয়ার্ডের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, জাহাজ কাটার কাজ চলার সময় আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণটি ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো জাহাজের ভেতরে জমে থাকা দাহ্য গ্যাস বা বাষ্পের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। জাহাজ কাটার আগে সেটি যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কি না, ট্যাংক ও পাইপলাইন পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে।
এর আগেও সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর আবারও শিপইয়ার্ডগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি বিস্ফোরণকবলিত জাহাজটি সর্বশেষ কী ধরনের পণ্য বা জ্বালানি বহন করেছিল, ইয়ার্ডে আনার পর কী ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল, গ্যাস ফ্রি সনদ ছিল কি না এবং জাহাজ কাটার আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিপব্রেকিং শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ধারাবাহিক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের প্রাণহানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শিপইয়ার্ডগুলোতে নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস