তিনি জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। এ সময় মালয়েশিয়া সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনের মালয়েশিয়া সফরের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালু করতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে একাধিক ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আলোচনায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু, কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে আনা। এ কারণে বোয়েসেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ কর্মীরা দালালচক্রের হয়রানি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের শিকার না হন।

মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই নতুন কর্মীরা পর্যায়ক্রমে মালয়েশিয়ায় যেতে শুরু করবেন এবং ধাপে ধাপে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, সরকার শ্রমবাজারকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কর্মীবান্ধব করতে বদ্ধপরিকর। নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে কর্মীরা যেন বিদেশে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে উভয় দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, চলমান আলোচনা শুধু নতুন কর্মী পাঠানোর বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে যোগ্য কর্মীরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং অযৌক্তিক খরচ বা দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হবেন না।

মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এর ফলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহও আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও জানান, কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

এস