বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা দ্রুত কমে যায় এবং এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও স্পষ্টভাবে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রতি বছর ঢাকায় মোট কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে, যা প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ উৎপাদনশীলতা হ্রাসের সমান।
বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৮০ সালের মধ্যে ঢাকায় উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টা হারানোর হার বেড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের যৌথ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া তাপজনিত চাপ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হারাতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণে পোশাক কারখানায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চাপ বাড়ায় নারী শ্রমিকদের প্রতি সহিংসতা ও হয়রানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চরম তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ উৎপাদনশীলতা হারিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জট বলেন, তাপসহনশীল নগর গড়ে তোলা শুধু মানুষের জীবন রক্ষার জন্য নয়, বরং কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্যও জরুরি। এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে আরে সহনশীল ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব।
এস