বুধবার (১২ আগস্ট) রাত থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টানা লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এক ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। কোথাও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। রাত ৯টা থেকে রাত দেড়টার মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ইস্কাটন গার্ডেনের কিছু অংশ, কাজীপাড়া, মৌচাক, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার, লালমাটিয়া ও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকায় লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যায়।
শেওড়াপাড়ায়ও প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানা গেছে। মৌচাক এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সাধারণত ট্রান্সফরমারে সমস্যা হলে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে বিদ্যুৎ ফিরে আসে। কিন্তু বুধবার রাতে প্রায় ৫০ মিনিট পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আনিকা তাসনিম জানান, তাঁর এলাকায় মাঝরাতে এক ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। তাঁর দাবি, ঢাকায় মাঝরাতে এত দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানান তিনি।
কাজীপাড়ার বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক রাহাত আহমেদ বলেন, গত তিন বছরের মধ্যে বুধবার রাতেই তাঁর এলাকায় সবচেয়ে বেশি সময় লোডশেডিং হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও মশার কারণে রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার ও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকার বাসিন্দারাও রাতে বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন।
তবে রাজধানীর সব এলাকায় একই পরিস্থিতি ছিল না। মিরপুর-১১ ও সাংবাদিক প্লট এলাকায় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। তবে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিহারি ক্যাম্প এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না বলেও জানান তিনি।
চলমান গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সর্বোচ্চ লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি রয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। সোমবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে। মঙ্গলবার ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং বুধবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।
পিডিবি ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) তথ্য বলছে, ১১ আগস্ট রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট। একই সময়ে আরইবির আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৩৪ মেগাওয়াট।
এদিকে দেশে গ্যাস সরবরাহও কমেছে। গতকাল গ্যাসের সরবরাহ ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট, যেখানে চাহিদা ছিল ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে ১০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার বলেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
এনএইচ