বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘দ্য মডার্ন সোশ্যাল সায়েন্টিস্টস: ন্যাভিগেটিং রিসার্চ, টিচিং অ্যান্ড একাডেমিক গ্রোথ’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এ কর্মশালার আয়োজন করে।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, উচ্চশিক্ষায় জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তরুণ শিক্ষকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, তরুণ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণায় উৎসাহিত করতে গবেষণা অনুদান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচিতে তরুণ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া সামার স্কুল ও তরুণ গবেষক কর্মসূচির মতো বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে তরুণ শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ইউজিসির এই সদস্য।
তিনি বলেন, সরকার জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের দক্ষতা ও গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও মর্যাদা বাড়াতে শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার প্রতি আরও মনোযোগী হতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ করলেই হবে না; গবেষণার সাইটেশন বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে এর ইতিবাচক প্রভাব বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়েও পড়তে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গবেষণার জন্য বৈদেশিক ও আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে হলে শিক্ষক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ জন্য গবেষণার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন।
কর্মশালায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরদৌসি নাহার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান ইমন ও তারানা জাহিদ সন্ধি।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় তরুণ শিক্ষকদের গবেষণা, পাঠদান এবং একাডেমিক দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে তরুণ শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ, শিক্ষক বিনিময় এবং তরুণ গবেষকদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করা গেলে শিক্ষকদের একাডেমিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রও আরও সমৃদ্ধ হবে।
এমএম