রুনা খান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের দুর্গম, প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে থেকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে তার প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের ৬৮তম র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
এ বছর রুনা খানের পাশাপাশি আরও দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এ পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক ও আইনজ্ঞ টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী বো চি।
প্রান্তিক মানুষের জন্য লড়াই
২০০২ সালে রুনা খান প্রতিষ্ঠা করেন ফ্রেন্ডশিপ। এরপর থেকে নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা সংকটে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের মূলধারার উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে অনেক সময় দূরে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়াই ফ্রেন্ডশিপের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে চরাঞ্চল, নদীবেষ্টিত দুর্গম এলাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।
রুনা খানের নেতৃত্বে ফ্রেন্ডশিপ শুধু মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণেই কাজ করেনি; বরং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিজেদের অধিকার, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন ও সক্ষম করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে।
ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের স্বীকৃতি
র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার এশিয়ার অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার। জনসেবা, নেতৃত্ব, মানবিকতা এবং সমাজের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রতি বছর ৩১ আগস্ট ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এবারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৬৮তম র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ডস উৎসব। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।
এমএম