শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নগরভবনে ‘৪১৬ হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজিত ঢাকা শোভাযাত্রা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

‘৪১৬ হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের শোভাযাত্রা শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক বললেন, ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করলেই পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়া সম্ভব।

আবদুস সালাম বলেন, ঢাকার ঐতিহাসিক স্থানগুলোর রেপ্লিকা শোভাযাত্রায় প্রদর্শনের মাধ্যমে নগরীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঐতিহাসিক স্থান শুধু ঢাকার গর্ব নয়, পুরো দেশের গর্ব। নতুন প্রজন্মকে ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই ঢাকা আমার’—এমন অনুভূতি নিয়ে নগরীকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। মানুষ যদি নিজের শহরকে নিজের বলে মনে করে, তাহলে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা, সবুজে রূপান্তর করা এবং মশামুক্ত রাখার কাজে সবাইকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

ঢাকাকে দূষণমুক্ত করার আহ্বান

ঢাকার বায়ুদূষণের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, বায়ুদূষণের কারণে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় থাকে। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করা গেলে এ দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

আবদুস সালাম বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই ‘৪১৬ হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়; এর জন্য নগরবাসীর সচেতনতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি ঢাকাবাসীর প্রতি নিজেদের শহরকে নিজের ঘরের মতো পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

লালবাগ কেল্লায় হবে চূড়ান্ত আয়োজন

এবারের ‘হৃদয়ে ঢাকা’ আয়োজন এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী সময় দিলে তাকে সঙ্গে নিয়ে লালবাগ কেল্লায় চূড়ান্ত অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরের সর্বস্তরের মানুষকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিশেষ করে আদি ঢাকার বাসিন্দাদের এ আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, আগামী বছর ‘হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসব আরও সুন্দর ও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। নগরীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকাবাসীর মধ্যে নিজেদের শহর নিয়ে গর্ব ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

সাইকেল র‍্যালি থেকে নৌকাবাইচ

‘হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনের কথাও তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, এরই মধ্যে সাইকেল র‍্যালি, ম্যারাথন, নৌকাবাইচ ও চিত্রাঙ্কন উৎসবের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি নগরবাসীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী বছর আরও ব্যাপক পরিসরে এসব আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।

স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন

নতুন প্রজন্মকে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে আগামী মাস থেকে প্রতি শনিবার স্কুলশিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শনের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন আবদুস সালাম।

তিনি জানান, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি বাসের ব্যবস্থা করবে। এসব বাসে করে শিক্ষার্থীদের ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্থান পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে।

আবদুস সালাম বলেন, ঐতিহাসিক স্থানগুলো সরাসরি দেখার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজেদের শহর ও ইতিহাস নিয়ে গর্ব তৈরি হবে। বইয়ের পাতায় ইতিহাস পড়ার পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নগরীর ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াবে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনারসহ ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও ইতিহাসের স্মৃতি বহন করে। এসব স্থাপনা শুধু অতীতের নিদর্শন নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস ও মানুষের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

সব সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের শহর ঢাকা

ঢাকা সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শহর উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের ঐতিহ্য ও স্মৃতি এ শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

তার ভাষ্য, ঢাকার ইতিহাসকে সামগ্রিকভাবে জানতে হলে নগরীর বিভিন্ন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনার সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে তোলাও জরুরি।

‘নিজের ঘরের মতো ঢাকা পরিষ্কার রাখতে হবে’

নগর পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে নাগরিকদের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, মানুষ নিজের বেডরুম ও ড্রইংরুম যেভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, একইভাবে ঢাকা শহরের রাজপথকেও সুন্দর রাখার চেষ্টা করতে হবে।

যত্রতত্র ময়লা না ফেলে ডাস্টবিন ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নয়; নাগরিকদেরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

আবদুস সালামের মতে, ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করার অর্থ শুধু শহরকে ভালোবাসা নয়, বরং শহরের প্রতি দায়িত্ব পালন করাও। পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে নগরবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব।

‘৪১৬ হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই নাগরিক অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এমএম