উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে কিনবে। প্রকল্পটি আগামী দেড় বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

আমিনবাজারে হবে ৪২ মেগাওয়াটের প্রকল্প

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে চীনা কোম্পানি।

প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সেখান থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিংয়ে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি হয়েছে। চূড়ান্ত অর্থায়ন চুক্তি বিনিয়োগকারী ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও বাংলাদেশের পক্ষগুলোর মধ্যে হবে।

ইউনিটপ্রতি ২৫ টাকা কেন?

বর্তমানে দেশে নিজস্ব গ্যাসে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ প্রায় ৬ থেকে ৭ টাকা। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্যাপাসিটি চার্জসহ গড়ে প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ ১২ থেকে ১৪ টাকা।

অন্যদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারদের কাছ থেকে গড়ে প্রতি ইউনিট ১৪ দশমিক ৪৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কিনছে। বিভিন্ন উৎস থেকে কেনা বিদ্যুৎ সরকার পাইকারি পর্যায়ে গড়ে ৮ দশমিক ৩৯ টাকা দরে বিক্রি করছে।

এই তুলনায় বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ২৫ টাকা ইউনিটদর বেশি মনে হলেও পরিবেশগত সুবিধার কারণে প্রকল্পটি লাভজনক হবে বলে মনে করছেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার খরচ বেশি মনে হলেও প্রকৃত সুবিধা পাওয়া যাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়।

তার ভাষ্য, বর্জ্য ধ্বংস করার পাশাপাশি ল্যান্ডফিলে অবশিষ্ট বর্জ্য থেকে জৈবসার উৎপাদন করা হবে। ফলে একদিকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, অন্যদিকে রাজধানীর বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপও কমবে।

প্রকল্পে চীনা কোম্পানি আমিনবাজারের ল্যান্ডফিল ব্যবহার করবে। এর বিনিময়ে সিটি করপোরেশনকে মাসিক ভাড়া দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের জন্য ওই জায়গায় বাংলাদেশ সরকারের কোনো বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না।

তার মতে, ঢাকার বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নগরবাসীর জন্য বড় বোঝা। সেই বর্জ্য থেকেই যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবেশগত সুফল পাওয়া যায়, তাহলে ইউনিটপ্রতি বেশি দাম দেওয়ার বিষয়টি অন্যভাবে পুষিয়ে যাবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মতো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ জন্য চীনের ‘পাওয়ার চায়না’ নামের একটি কোম্পানিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলের বর্জ্য কাজে লাগানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দর উন্নয়নেও চীনের আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এস