বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু কানসাস। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আলজেরিয়ার বিপক্ষে কানসাসে ম্যাচ দিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল। লিওনেল মেসিদের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের কানসাস পর্ব শেষ হয়েছে। কানসাসে সফল আয়োজনে যুক্ত ছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি ভলান্টিয়ার।

খুব কাছ থেকে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাওয়া সত্যিই দারুণ ব্যাপার। বিশ্বকাপ আয়োজনের অভিজ্ঞতা খুব ঘনিষ্ঠভাবে দেখলাম।

বাংলাদেশি ভলান্টিয়ার ঐশী

মিডিয়া সেন্টারে ভলান্টারিং করেছেন ঐশী। ফুটবলাররা যখন মাঠে নামেন পতাকা নিয়ে তিনিও ছিলেন একবার। খেলা শুরুর আগে ফটোসাংবাদিকরা ছবি তোলেন। তখন তাদের গাইডলাইন নির্দেশনা পালনের তদারকিও করেন।

বিশ্বকাপের অংশ হতে পেরে খুব গর্বিত ঐশী, ‘খুব কাছ থেকে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাওয়া সত্যিই দারুণ ব্যাপার। বিশ্বকাপ আয়োজনের অভিজ্ঞতা খুব ঘনিষ্ঠভাবে দেখলাম।’ বাংলাদেশে মিডিয়া নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কানসাসেও একই বিষয়ে পড়ছেন। বিশ্বকাপে মিডিয়ায় দায়িত্ব পাওয়ায় খুশি বাংলাদেশের এই তরুণী, ‘আমার পড়াশোনা মিডিয়া সংক্রান্ত। বিশ্বকাপে আবেদনের সময়ও ইচ্ছা ছিল মিডিয়ায় কাজ করার। শেষ পর্যন্ত মিডিয়ায় দায়িত্ব পড়ায় ভালোই লাগছে।’

যে কোনো টুর্নামেন্ট সফল করতে ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা অনেক। এবারের ফিফা বিশ্বকাপেও নানান দেশ থেকে অনেকেই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। আছেন বাংলাদেশিরাও।

বিশ্বকাপের প্রাণ সমর্থকরা। অনেকে স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারেন না। তাদের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করে ফিফা। সেখানেও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার জন্য ভলান্টিয়ার প্রয়োজন। ওখানে দায়িত্বে ছিলেন আরেক বাংলাদেশি সাখাওয়াত হোসেন । তার প্রতিক্রিয়া, ‘স্টেডিয়ামের মতোই উন্মাদনা ফ্যান জোনে। নানা দেশের নানা ভাষার মানুষের সঙ্গে পরিচয় ও কাজ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।’

কানসাসে আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী ইজাজ আসিফ। তিনিও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনার ভলান্টারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। কানসাস সব ম্যাচই স্টেডিয়াম থেকে তার মূল্যায়ন, ‘একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কানসাসে পড়াশোনা করছি। বিশ্বকাপ এই শহরে হওয়ায় এই অভিজ্ঞতা নিতে পারলাম। পরবর্তী জীবনে এটা অবশ্যই কাজে দেবে।’

একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কানসাসে পড়াশোনা করছি। বিশ্বকাপ এই শহরে হওয়ায় এই অভিজ্ঞতা নিতে পারলাম। পরবর্তী জীবনে এটা অবশ্যই কাজে দেবে।

কানসাসে ফিফা ভলান্টিয়ার সংখ্যা দশ জনের মতো। কানসাসের পাশাপাশি নিউ জার্সি, বোস্টনসহ আরও অনেক ভেন্যুতে বাংলাদেশের ভলান্টিয়াররা রয়েছেন। নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে বাংলাদেশের এক ভলান্টিয়ার রয়েছেন।

এমবাপের বাবার সঙ্গে ছবি তুলেছেন বাংলাদেশের ভলান্টিয়ার। এ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বাস তার,‘বিমানবন্দরে ডিউটি পড়ায় প্রথম দিকে একটু আফসোস লাগছিল। পরবর্তী দেখলাম এখান থেকে অনেক তারকা ও পরিবারকে কাছে পাওয়া যায়।’ তবে এই বিশ্বকাপে সর্বমোট কতজন বাংলাদেশি ভলান্টিয়ার কাজ করছেন, এর প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি ফিফার কাছ থেকে।

এমএম