দিনের শেষ দিকে পরপর তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে সেই চাপ সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ। ৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রানের জুটিতে দিন শেষ করে স্বাগতিকরা।
মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ রান এবং হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। তৃতীয় দিনে এই জুটি থেকেই বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হবে।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের শুরুটা দারুণভাবে করে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হকের ১০২ রানের জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ ধরে রাখে স্বাগতিকরা। মুমিনুল ৪৯ রানে ফেরার পর তানজিদের সঙ্গে জুটি গড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
১৮৮ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তানজিদ। তার ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও দারুণ ব্যাটিংয়ের প্রদর্শন। তানজিদের বিদায়ের পরও শান্ত দলকে বড় লিডের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন।
তবে দিনের শেষ সেশনে নতুন বল হাতে পাওয়ার পর ম্যাচের চিত্র বদলে দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজলউডের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৮৪ রানে আউট হন শান্ত। ১২৬ বলের ইনিংসে তিনি ৭টি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন।
শান্ত ফেরার পর দ্রুতই আরও দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটন দাস কোনো রান না করেই মিচেল স্টার্কের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর ৫৫ বলে ৩৬ রান করা মুশফিকুর রহিমকে প্যাট কামিন্সের বলে স্মিথের ক্যাচে পরিণত করেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।
একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে ৩০৮ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা চাপে পড়ে যায়।
সেখান থেকে মিরাজ ও হাসান মাহমুদ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রায় ২৫ ওভার ব্যাট করে তারা অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের আর কোনো সাফল্য পেতে দেননি।
তবে দিনের শেষ মুহূর্তে জীবন পান মিরাজ। মার্নাস লাবুশেনের বলে তার ক্যাচ নিতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। বলটি মাটিতে পড়ার আগে গ্রিন সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ৩২ রানেই মিরাজকে ফিরতে হতো।
শেষ পর্যন্ত ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দিন শেষ করেন মিরাজ। এখন তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে দ্রুত রান তুলে লিড আরও বড় করা এবং অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় চাপের মধ্যে ফেলা।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ: ৩৫১/৬
মিরাজ ৩২*, হাসান মাহমুদ ১৩*
তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪
স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮
স্মিথ ৭১, হাসান মাহমুদ ৬/৫৫
বাংলাদেশের লিড: ১৫৩ রান
এস