ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুজনের অর্জিত পদকও বাতিল করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের লিঙ্গ-যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের পর মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ড তাদের কার্যক্রম শেষ করে ১১ মে। পরে ১৬ মে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশ্ব অ্যাথলেটিকস সংস্থার সংশ্লিষ্ট বিধি পর্যালোচনা করে দুই অ্যাথলেটকে নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জান্নাত বেগম জ্যাভলিন ও ডিসকাস থ্রোতে জাতীয় রেকর্ডের অধিকারী। তার অর্জনের তালিকায় রয়েছে আটটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক। অন্যদিকে কবিতা রায় ১০০ মিটার, ২০০ মিটার এবং ৪×১০০ মিটার রিলেতে একটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদক বাতিল করা হয়েছে।
নারী ক্রীড়াবিদদের প্রতিযোগিতায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ও যৌন বিকাশের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাথলেট ক্যাস্টার সেমেনিয়ার মামলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত। তার বিরুদ্ধে নির্ধারিত টেস্টোস্টেরন-সংক্রান্ত নিয়ম প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের গ্র্যান্ড চেম্বার সেমেনিয়ার মামলায় সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়াগত অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উল্লেখ করে রায় দেয়। তবে নারী ক্রীড়ায় টেস্টোস্টেরন-সংক্রান্ত বিধির মূল বৈধতা নিয়ে আদালতের ওই রায় সরাসরি সিদ্ধান্ত দেয়নি।
বাংলাদেশে দুই অ্যাথলেটের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েও মানবিক ও ক্রীড়া-নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, যৌন বিকাশের ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নেওয়া ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার যোগ্যতা নির্ধারণ একটি জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়। তাই ক্রীড়া বিধি অনুসরণের পাশাপাশি এ ধরনের সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত মর্যাদা, গোপনীয়তা ও ন্যায্যতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
এনএইচ