দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র নির্বাহী পরিষদ। একই সঙ্গে বর্ষিয়ান সম্পাদক আবুল আসাদকে অবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে বিএফইউজে।

এছাড়া বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, দৈনিক সংগ্রামের বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থিত বিএফইউজে’র নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত প্রস্তাবে এ দাবি জানানো হয়েছে। সভায় গণমাধ্যমের ওপর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সব ধরণের চাপ ও হুমকি বন্ধ, আসন্ন সিটি নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ঢাকাসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের গণহারে চাকরিচ্যুতি, অব্যাহত হামলা, মামলা ও হয়রানি বন্ধের আহবান জানানো হয়েছে।

বিএফইউজে’র সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ। সভায় নির্বাহী পরিষদের ঢাকায় অবস্থানরত কর্মকর্তারা অংশগ্রহন করেন।

সভায় গৃহীত প্রস্তাবে দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলা ও তান্ডব এবং বয়োজ্যেষ্ঠ সম্পাদক আবুল আসাদকে লাঞ্ছিত করে গ্রেফতার, রিমান্ড ও কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগাওে বন্দী রাখা এবং পত্রিকার চীফ রিপোর্টার, বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

সভায় একটি অনুষ্ঠানে বিদ্যুতায়িত হয়ে কলেজ ছাত্র আবরারের দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, আবরারের মৃত্যুর ঘটনা মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। দেশের সকল বিবেকবান মানুষই চায় এ দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুতে সত্যিকারের কোন অবহেলা ও দায় থাকলে তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার হোক। কিন্তু ঘটনার পর সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে যেভাবে বক্তব্য ও নির্দেশনা এসেছে তাতে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার শঙ্কা যেমন দেখা দিয়েছে তেমনি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আক্রোশ প্রকাশ পেয়েছে। ফলে প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে চার্জশীট দাখিল ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি জনমনে যেমন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে তেমন স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য নতুন হুমকি বলে মনে করছে বিএফইউজে নির্বাহী পরিষদ। 

সভায় দেশের গোটা গণমাধ্যমজুড়ে যে অস্থিরতা, গণহারে চাকরিচ্যুতি এবং প্রভাবশালী মহলের অব্যাহত চাপ, সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়া হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সহ সভাপতি মোদাব্বের হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, বিএফইউজে’র সহকারি মহাসচিব আহমদ মতিউর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডিএম সাদ বিন রাবি, দফতর সম্পাদক আবু ইউসূফ, নির্বাহী সদস্য নাসির আল মামুন প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এমবি