পদক প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা বলেন, অধ্যাপক মতিউর রহমান ছিলেন সাহিত্য অঙ্গনের মহীরুহতুল্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর পাণ্ডিত্য ও সৃষ্টিশীলতার জন্য বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। একজন মহান ব্যক্তির নামে পদক প্রদান করায় তিনি সিএনসিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সিএনসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল হকের পরিচালনায় এবং সচিব ইসমাইল হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিএনসির সভাপতি, বিশিষ্ট শিশু সংগঠক ও লেখক অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অধ্যাপক মতিউর রহমান ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সাহিত্যের শিকড় অনুসন্ধান। এ লক্ষ্যে তিনি ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি তিনি আরও বেশ কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সিএনসি তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে সাহিত্যপ্রেমীদের উদ্যোগ গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক মতিউর রহমান সারাজীবন সাহিত্যিকদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। বর্তমান প্রজন্মের যারা তাঁকে নিয়ে গবেষণা করতে চান, তাদের তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে -যা তাঁর জীবন ও কর্ম বিষয়ে গবেষণায় সহায়ক হবে।
সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, নিবন্ধকার, গীতিকার, নাট্যকার ও রম্যলেখক। কথাসাহিত্যসহ সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় তাঁর সক্রিয় পদচারণা রয়েছে। তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘মেঘে মেঘে বেলা’, যদিও তাঁর প্রথম রচিত উপন্যাস ‘তুলসী গঙ্গার তীরে’। তাঁর প্রথম কবিতা ‘ভোরের পাখি’ এবং প্রথম ছোটগল্প ‘কুহক’। ‘আয়না বুড়ির বিয়ে’ তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা এবং ‘অবলীলায়’ তাঁর একটি অনন্য নাট্যকর্ম। সঙ্গীত রচনাতেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন; তাঁর লেখা ‘রবের হুকুম করতে পালন ছাড়ো ছাড়ে ঘুম’ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।
কর্মজীবনের শুরু শিক্ষকতা দিয়ে হলেও বর্তমানে তিনি একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক ও জনপ্রিয় কলামিস্ট। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, পাক্ষিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কলামের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যমেও লিখছেন এবং একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন গবেষক হিসেবেও পরিচিত; তাঁর গবেষণামূলক নিবন্ধগুলো পাঠকমহলে সমাদৃত। সম্পাদক ও অনুবাদক হিসেবেও তাঁর সুনাম রয়েছে।
এনএইচ