মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর রমনার অফিসার্স ক্লাবে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি মোকাবিলা করা। বিগত সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়যোগ্য বিপুল অর্থ করের আওতার বাইরে থেকে গেছে, যার ফলে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষমতায় আসার আগেই রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সমস্যার সংস্কার ও সমাধান ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। সরকার শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য ক্ষমতায় আসেনি; বরং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো দূর করে কার্যকর পরিবর্তন আনতে চায়।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নাগরিকদের উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতাকে কাজে লাগাতে হবে। মানুষের ভেতরে যে উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিকে উৎসাহিত করতে পারলে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে। অর্থনীতির প্রকৃত শক্তি মানুষের কর্মপ্রচেষ্টা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই নিহিত। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থের লেনদেনের গতি বৃদ্ধির ওপর। মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ যত বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যত সম্প্রসারিত হবে, অর্থনীতিও তত শক্তিশালী হবে।
বীমা খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, একজন উদ্যোক্তার জন্য আর্থিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবন বীমা ও অন্যান্য বীমা সেবা মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আস্থা তৈরি করে, যা উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগ ও উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করে। ফলে বীমা খাত শুধু একটি সেবামূলক খাত নয়; বরং দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দেশের বীমা খাতকে আরও বিস্তৃত করতে হবে এবং এ খাতে মানুষের আস্থা বাড়াতে শক্তিশালী আইন, নীতিমালা ও বিধিবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন। শুধু পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর আধুনিক অর্থনৈতিক লেনদেন পরিচালিত হতে পারে না। বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনি কাঠামো অপরিহার্য।
তথ্যমন্ত্রী বীমা খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, খাতটির বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা উচিত, যাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বীমা খাতের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে বীমা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং তাদের এই সেবার আওতায় আনা গেলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা গ্রাহকসেবা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বীমা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দেশের বীমা খাতকে আরও আধুনিক ও জনমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এমএম