বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান।
দুদক সচিব জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। এটি ওই কার্যালয়ে দায়ের হওয়া ১ নম্বর মামলা। সাবেক আইনমন্ত্রী হিসেবে সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক আচরণ এবং অসাধু উপায়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল।
তদন্তে আনিসুল হকের নামে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। পাশাপাশি আনিসুল হক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে এসব হিসাবে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আনিসুল হক নিজ নামে এবং বেনামে তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, বোনের ছেলে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কথিত কাজিন মোহাম্মদ ইকবালের সহায়তায় সম্পদ অর্জন ও তা পরিচালনা করেছেন।
দুদকের দাবি, এই তিন ব্যক্তি সরাসরি ও পরোক্ষভাবে আনিসুল হককে মোট ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকার সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন। এ কারণে তদন্তে তাদেরও আসামি করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, ২৯টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এস





