সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন।
আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করে তা দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির কথা বলা হয়েছে। সেখানে নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে জেলা জজ, মহানগর জজ, সিজিএম ও সিএমএমসহ সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের জানাতে বলা হয়েছে। মামলার সঙ্গে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি এবং আইনজীবীর পরিচয়পত্র সংযুক্ত রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, কোনো নাগরিককে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
আদালত আরও বলেন, ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে তার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।
রায়ে বলা হয়, আদালতকে ব্যবহার করে যেন কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে অবহেলা হলে নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, পরবর্তী সময়ে তা পূরণ করা সম্ভব নয়।
ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে গ্রেফতার ও হয়রানির বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)।
রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং গুলশান থানার ওসিসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়।
রিটের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একই সঙ্গে আরিফ নিয়াজী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ঘটনায় গুলশান থানার ওসিকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।
মামলার বিষয়ে বলা হয়, ২০১২ সালে আরিফ নিয়াজীকে গুলশানের বাসা থেকে একটি ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আটক করে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা—দুটিই ভুয়া।
এরপর রিট আবেদন করা হলে হাইকোর্টের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদনে মামলাটি এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাটি ভুয়া ছিল বলে উঠে আসে।
পরবর্তীতে রিটের উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে হাইকোর্ট সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।
এনএইচ





