গ্রেপ্তার দুজন হলেন খোকন ও রাজীব মাতব্বর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের বিরুলিয়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
ডিবির ভাষ্য, গত ২৯ আগস্ট শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পূর্ব প্রান্তে জাতীয় সংসদ ভবনের খেজুরবাগানের সামনে রনজিলার রিকশা লক্ষ্য করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগে টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় রনজিলার স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
যেভাবে শনাক্ত দুই ছিনতাইকারী
ডিবি জানায়, ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছিনতাইকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
খোকনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর থানার বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিলার ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের মধ্যে তার ব্যবহৃত পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল। পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে রনজিলার মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
এরপর ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির চালক হিসেবে সাভারের বিরুলিয়া থেকে রাজীব মাতব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় ডিবি।
ডিবির দাবি, রাজীবের কাছ থেকে ৬২২টি ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়েছে।
দুজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজীবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ মোট আটটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সিসিটিভি ফুটেজে একটি মোটরসাইকেলে দুজনকে দেখা যায়। রাজীব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং পেছনে ছিলেন খোকন।
ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি রাজীবের নিজের বলে জানিয়েছে ডিবি। এটি ভাড়া করা হয়নি। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি খোকনের পরনের শার্ট, হাতের ঘড়ি ও মাথায় থাকা ক্যাপও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
র্যাবের গ্রেপ্তার তিনজনের সম্পৃক্ততা মেলেনি
এর আগে গত ৩০ আগস্ট র্যাব-২ রাকিব, প্যারা পনি ও সেড্রিক নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, রাকিব ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির মালিক এবং অন্য দুজন তার সঙ্গে ছিলেন। তবে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
এ ছাড়া র্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
ডিবিপ্রধান বলেন, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে রনজিলার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। ওই তিনজনের একজনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা থাকার তথ্যও পাওয়া যায়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, র্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেল এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে দুই মোটরসাইকেলের রঙ এক নয়।
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার তিনজনের সঙ্গে নতুন করে গ্রেপ্তার খোকন ও রাজীবের কোনো যোগাযোগ বা যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন গ্রেপ্তার দুজন পশ্চিম মনিপুর এলাকায় থাকেন, আর র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার তিনজন তেজতুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের দুটি পৃথক গ্রুপ হিসেবে দেখছে ডিবি।
স্বামীর দেওয়া বর্ণনায় শনাক্ত খোকন
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের সময় রনজিলার স্বামী ছিনতাইকারীকে এক ঝলক দেখেছিলেন। পরে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি ওই ব্যক্তির চেহারার বর্ণনা তদন্তকারীদের দেন।
ডিবি জানায়, পেছনে বসে থাকা খোকনকে দেখানোর পর রনজিলার স্বামী তাকে শনাক্ত করেন।
তদন্তে রনজিলার ভ্যানিটি ব্যাগ, মোবাইল ফোন, পরনের পোশাক, ওষুধ ও টিকিটের অংশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানান ডিবির কর্মকর্তারা।
র্যাবের গ্রেপ্তার তিনজনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত
ডিবিপ্রধান বলেন, তদন্তে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের রনজিলা হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে তাদের এ মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা থাকলে সেসব মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া চলবে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার খোকন ও রাজীবের সঙ্গে ঢাকার অন্য কোনো ছিনতাই বা অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হবে।
এস





