বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তৃতীয় দফা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কী কারণে ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছে (পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন নাকি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোন্দল)—তা নিশ্চিত হওয়া, হত্যার কাজে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার, মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা এবং এই হত্যার পেছনে অন্য কোনো মাস্টারমাইন্ড বা ভাড়াটে খুনি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী বা সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যের সঙ্গে আসামির জবানবন্দি মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অপরাধের ধরন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে গত ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ ছাড়া এই মামলায় গ্রেপ্তার অপর আসামি জেরিকা তাসনিম দিশার গত ১ নভেম্বর চার দিন এবং গত ৪ নভেম্বর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তিনিও রিমান্ডে রয়েছেন।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ভোররাতে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কাফরুল এলাকা থেকে নিহত তাহসিফের বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে দীপকে দেখা যায়। এ সময় তারা হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে মরদেহ ভাসার খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতের হাতের ঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

এস