আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে নাগরিকরা অনলাইনে দ্রুত বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি ডিজিটাল সনদও সংগ্রহ করতে পারবেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালু হলে বিবাহ নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও বয়স যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে বয়স গোপন করে বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ কমবে এবং বাল্যবিবাহ শনাক্ত করা সহজ হবে।

একইভাবে পূর্বের বিবাহ ও তালাকের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকায় কেউ আগের বৈবাহিক সম্পর্ক গোপন করে নতুন বিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা করলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে গোপন বা অননুমোদিত বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

১০ জেলার ১০ উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম

প্রাথমিকভাবে দেশের ১০ জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের পাইলট কার্যক্রম চালু করা হবে।

পাইলটের আওতায় থাকা উপজেলাগুলো হলো—গাজীপুরের কালীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নড়াইল সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিলেট সদর, কক্সবাজারের চকরিয়া এবং কিশোরগঞ্জ সদর।

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ। এর মাধ্যমে নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই আরও নির্ভুলভাবে করা যাবে।

কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল সনদ

নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এনআইডি-সিম ভেরিফিকেশন ও বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো কাবিননামা ও তালাকসংক্রান্ত নথি ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল ম্যারেজ সার্টিফিকেট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সনদের সত্যতা সহজেই যাচাই করা যাবে এবং কাগজের সনদের ওপর নির্ভরতা কমবে।

সফটওয়্যার উন্নয়ন প্রায় শেষ

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসও পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পের চুক্তির মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব স্বাক্ষর করেন।

এস