রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের শিকার ২৫১ ব্যক্তির প্রত্যেককে প্রায় একই ধরনের প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছেন। ঘটনাগুলোর মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য থাকায় এগুলোকে ‘ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক’ বা ব্যাপক ও পরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোববার গুমের শিকার পরিবারের ৫৫ সদস্য ট্রাইব্যুনালে এসেছেন। তদন্ত সংস্থার ১৮ জন কর্মকর্তা তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করছেন। পর্যায়ক্রমে অন্য পরিবারগুলোর সদস্যদেরও জবানবন্দি নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের কাছে থাকা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করা হবে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের ঘটনায় জড়িতদের অনেকাংশে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কারা কীভাবে তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং কোথায় এসব ঘটনা ঘটেছে, সেসব বিষয়ও প্রায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ পর্যায়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তিনি জানান, বিভিন্ন মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ গুমের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। এ ছাড়া বর্তমানে কর্মরত এবং অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও অভিযুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই বিচার শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শনাক্ত করা আসামিদের গতিবিধির ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালে আসামিদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গুমের ঘটনায় সাক্ষ্য দেওয়া বা ভবিষ্যতে সাক্ষ্য দেবেন—এমন পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তাদের কোনো ধরনের টার্গেটের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, তদন্ত কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত বা নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে ২৫১ জনের গুমের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে রোববার গুমের শিকার পরিবারের ৫৫ সদস্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করছেন তদন্ত সংস্থার ১৮ কর্মকর্তা।

এস