সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারহা মাহবুবের চেম্বার আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এনবিআরের অতিরিক্ত কর দাবিকে অবৈধ ঘোষণার জন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দুটি রিট করা হয়েছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রিট দুটি খারিজ করে দেন। তবে ওই দিন মৌখিকভাবে আদেশ দেওয়া হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি।

তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় না পাওয়ায় আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ও আপিল দায়েরের আগ পর্যন্ত হাইকোর্টের মৌখিক আদেশের ভিত্তিতে যেন কোনো কার্যক্রম নেওয়া না হয়, সে জন্য চেম্বার আদালতে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল।

তবে শুনানি শেষে চেম্বার আদালত কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত জানিয়েছেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতকে জানিয়েছেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে এনবিআরের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী, ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি আয়করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ। একই সঙ্গে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আগে জারি করা রুল খারিজ করে দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, রিট খারিজ হওয়ায় এনবিআরের দাবি করা অর্থ প্রতিষ্ঠানটিকে পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়।

এস